আমার কথা জুলাই ২০১৯

 

cropped-sahachari-pic-1সাহিত্য সভা/ ৩৯তম উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সন্মেলন, বল্টিমোর, মেরীল্যান্ড, ৫-৭ই জুলাই, ২০১৯

২০১৯ এর  নর্থ আমেরিকা বঙ্গ সন্মেলন হয়ে গেল বাল্টিমোর কনভেন্‌শন সেন্টারে গত ৫-৭ই জুলাই। অন্যান্যবারের মতো এবারো সাহিত্য সন্মেলন হয়েছিল দুদিন ধরে চারটি সেশনে- শনি ও রবিবার। দেশের ও প্রবাসের বেশ কিছু সাহিত্যিক ও কবিরা এসেছিলেন। শ্রোতার আসরে ছিলেন অনেক সাহিত্য-প্রেমী মানুষ।আলোচনা, বইপাঠ, প্রশ্নোত্তর ও মন্তব্যে বেশ জমে উঠেছিল দুদিনের এই সাহিত্য সভা।

সেশন ১ “ভুবন জোড়া আসনখানি, বাংলা ও বাঙ্গালী”, ৬ই জুলাই

Session 1

 

উপস্থিত ছিলেন শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বপ্নময় চক্রবর্তী, মন্দাক্রান্তা বসু, নবকুমার বসু, বীথি চট্টোপাধ্যায় ও কুশনাভ চৌধুরী। এই সেমিনারটির সঞ্চালক ছিলেন ডাঃ যশোমান ব্যানার্জী। সবাই একটু একটু করে তাদের বক্তব্য রাখলেন। শ্রীজাত আর স্বপ্নময় দুজনেই বাঙ্গালী মনিষীদের সম্বন্ধে বললেন।মেঘনাথ সাহা, প্রশান্ত মহলানবিশ, সুভাষ চক্রবর্তী, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়- এদের সকলের সম্বন্ধে আলোচনা করলেন। স্বপ্নময় শেষ করলেন বলে যে বাঙ্গালী সারা বিশ্বে আছে, শুধু বাংলা খাবার সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া যায় নি। খেজুর গুড়ের কথা সারা বিশ্ব জানে না।

Session 1 image

কুশনাভ চৌধুরী এবারের বংগসন্মেলনে নতুন মুখ।পেশায় সাংবাদিক কুশনাভ সম্প্রতি (২০১৮) “The Epic city: world on the streets of Calcutta” নামে একটি বই লিখেছেন। কুশনাভর জন্ম এদেশে। বার বছর বয়সে দেশে ফিরে যান। তারপর এসেছেন কয়েকবার এবং ডক্টরেট করেছেন এদেশে, বর্তমানে স্টেট্‌সম্যান পত্রিকায় চাকরী করেন। বইপড়ুয়া এই মানুষটিকে প্রভাবিত করেছেন স্পানিষ লেখক  হোরহে লুইস বোরজেস (Jorge Luis Borges) ও  লেখক  সৈয়দ মুজতবা আলী।“দেশে বিদেশে”-র কথা বিশেষ ভাবে বললেন। মুজতবা আলীর লেখার মধ্যে একটি আড্ডা বা মজলিশের পরিবেশ এসে যায়- যেটির কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করলেন। একই সুত্রে উল্লেখ  করলেন বোরজেস এর লেখার মধ্যেও এইরকম একটা আড্ডার পরিবেশ থাকতো।

সেশন ২ “সত্ত্বার সন্ধানে”, ৬ই জুলাই। উপস্থিত ছিলেন স্বপ্নময় চক্রবর্তী, শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবকুমার বসু।এখানে প্রত্যেকেই এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য রাখলেন। স্বপ্নময় চক্রবর্তী তার “হলদে গোলাপ” এর বিষয় নিয়ে বললেন। ২০১৫ সালে আনন্দ পুরস্কার পাওয়া এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল ট্রান্সজেন্ডার (Transgender)  নিয়ে। “আমি কে? আমি বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন, যে যেভাবে চেনে” -এই উক্তিটি বেশ মনে ধরলো।তিনি বললেন নানা রকমের মানুষের কথা বলে উল্লেখ করলেন সেই মানুষদের কথা যারা শরীরে পুরুষ ও মনে মেয়ে।এই প্রসঙ্গে তার প্রায় ১০-১২  বছরের রিসার্চের ফল এই উপন্যাসটি।তিনি বরাবরি সাহিত্য ও বিজ্ঞানের মধ্যে একটা যোগাযোগ করতে চেয়েছেন। “হলদে গোলাপ” এই দুয়ের যোগসুত্র স্থাপনের একটা এক্সপেরিমেন্ট।

Session 2 image 1

শ্রীজাত সম্বন্ধে আলাদা করে বলার অবকাশ রাখে না। তার লেখা “উড়ন্ত সব জোকার” ২০০৪ সালে কৃত্তিবাস পুরস্কার পায়। তিনি দুই সত্ত্বার টানাপোড়েন নিয়ে লেখা “তারা ভরা আকাশের নীচে” উপন্যাস থেকে কিছু অংশ পড়লেন। বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্ণধার নায়ক আর তার অন্য সত্ত্বা (যে চিত্রকার হতে চায়) এই দুইয়ের সংঘাত প্রকাশিত হয়েছে শ্রীজাত র কলমের আঁচড়ে। ক্রমশঃ গল্পের নায়ক হ্যালুসিনেট করতে শুরু করে এবং এই সময়ে সে ভিন্‌সেন্ট ভ্যান গঁগ কে তার সামনে দেখে এবং তার সঙ্গে কথা বলে।বেশ ভালো লাগলো-এই উপন্যাসের অংশটি শুনে।

সাহিত্যিক নবকুমার বসু ঔপন্যাসিক সমরেশ বসুর পুত্র।ইউনাইটেড কিংডম (UK)- বাসী ও পেশায় ডাক্তার। ওনার লেখা “চিরসখা” তিন বছর ধরে দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছে।তিনি তার লেখা উপন্যাস “তোমার আঁধার তোমার আলো” রবীন্দ্রনাথের পুত্র রথীন্দ্রনাথের সত্ত্বার টানাপোড়েন তুলে ধরেছেন। প্রসঙ্গতঃ বলে রাখি এই তিন সাহিত্যিকের তিনটি বই মুক্তধারাতে পাওয়া যাবে।

সেশন ৩ “নারী ও শক্তি”, ৭ই জুলাই। উপস্থিত ছিলেন মন্দাক্রান্তা বসু, শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়, বীথি চট্টোপাধ্যায় ও আনিস আহমেদ। এখানে এদের সম্বন্ধে একটু বলি।

মন্দাক্রান্তা বসু ব্রিটিস কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির এমেরিটাস প্রফেসর। ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া গবেষণা বিভাগের ডিরেক্টর। নাচেও পারদর্শী। “Classical Indian Dancing”,  “Movement and Mimesis: the idea of  Dance in Sanskritic Tradition” , এবং “নর্তননির্নয়” তার লেখা বই।এছাড়াও তার অনেক রচনা প্রকাশিত হয়েছে।

এবারে আসি বীথি চট্টোপাধ্যায়ের কথায়। কলকাতার অন্যতম কবিদের মধ্যে একজন।প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে দেশ  পত্রিকায়। ক্রমে ছোট গল্প ও উপন্যাস লেখেন। “প্রিয়বন্ধু”, “কলকাতা”, “দাঁড়াও পথিকবর” বীথির উল্লেখযোগ্য কবিতা।

আনিস আহমেদ কবি। গত পঁচিশ বছর ধরে প্রথমে বিবিসি ওয়াল্ড (লন্ডন)ও পরে ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত। বেশ কয়েকটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে “শব্দ ও নৈঃশব্দের সুর” “আলোকিত পালকের জলবিন্দু” ইত্যাদি।

এদের চারজন এবং সমবেত শ্রোতামহলীকে নিয়ে দ্বিতীয় দিনের সাহিত্যসভা বেশ জমে উঠেছিল।

সেশন ৪ “প্রবাসে বাঙ্গালীর সাহিত্য চিন্তা” ৭ই জুলাই। উপস্থিত ছিলেন কৌশিক সেন,  কুশনাভ চৌধুরী, অমৃতা মুখার্জী, রুদ্রশংকর, আনিস আহমেদ, তাপস রায় ও বীথি চট্টোপাধ্যায়।

এখানে কয়েকজনের সম্বন্ধে একটু বলে রাখি। প্রথমে রুদ্রশংকরকে দিয়ে শুরু করি। সমকালীন কবি। এপার ও ওপার বাংলার মানুষ তার লেখা পড়ে থাকেন।তার লেখা কবিতার সাতটি কবিতার বই ভারত ও বাংলাদেশে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬-এ ভাষানগর পুরস্কার এবং ২০১৯ এ “টার্মিনাস বই পার্বন” পুরস্কার পান।

“ঘর খোঁজা সন্ধ্যারা” কবিতা বই-এর লেখক তাপস কুমার রায় প্রবাসী কবি এবং আর্টিষ্ট। দেশ, কৃত্তিবাস ও দুকুল পত্রিকায় তার লেখা কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।

পেশায় ডাক্তার  প্রবাসী কৌশিক সেনের নেশা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা। মৌলিক নাটক লিখেছেন ও অভিনয় করেন।দেশ, আনন্দবাজার, সানন্দা, পরবাস ইত্যাদিতে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

প্রবাসী অমৃতা মুখ্যার্জী পেশায় ডাক্তার এবং লেখিকা। এই পর্যন্ত তার ৬ টি গল্প ও কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে এবং জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

Session 4 image 1

এবারে আসি এই সাহিত্যসভার আলোচ্য বিষয় নিয়ে। বেশ জমে উঠেছিল সভাটি।প্রবাসীদের কাছে বড় প্রশ্ন যে “পরের প্রজন্ম কি বাংলা সাহিত্য চর্চা করবে প্রথম প্রজন্মের মতো? তারা কি ভাববে বাংলা ভাষা নিয়ে?” কুশনাভ-এ মতে “পরের প্রজন্ম বাংলা ভুলে যাবে কারণ ভাষার প্রতি আকর্ষণ আমরা তৈরী করিনি”।

এই প্রসঙ্গে কথা উঠল কিভাবে আকর্ষিত করব? ভালো মাধ্যমের সাহায্যে যদি আমরা সাহিত্যিক ও কবিদের ওদের কাছে পৌছে দিতে পারি।ফিল্ম বা সিনেমা সবাই দেখে। ভালো ফিল্ম তৈরী করতে পারলে নিশ্চয়ই দেখতে এবং জানতে আগ্রহী হবে।

ট্রান্সশ্লেসনের কথা উঠল। তবে একটা লেখার সম্পূর্ণ ট্রান্সশ্লেসন হয়তো করা সম্ভব নয়। ভাষাটা না জানলে একটি রচনা সম্পূর্ণভাবে অনুভব করা হয়তো যায় না। ট্রান্স-ক্রিয়েশন- একটা নতুন ফর্ম তৈরী হয়েছে। এই বিষয়ে আলোচনা হল।

তবে যদি বাংলা আর ইংরেজী দুটোতেই লেখা যায়? প্রচেষ্টা হয়েছে। দুকুল ম্যাগাজিন তার প্রমাণ। কিন্তু আবার সেই চেষ্টা ব্যার্থ হয়েছে সময়োপচিত সাপোর্টের অভাবে।  প্রবাসীদের এখন সময় এসেছে ভাববার এই বিষয়টি নিয়ে।

Session 4 image 5

শেষদিনের এই সাহিত্যসভার রেশ নিয়ে লেখাটি লিখে ফেললাম। আশাকরি আরো বাংলা সাহিত্যপ্রেমী মানুষ আসবেন তাদের নতুন ভাবনা নিয়ে। নতুন চিন্তা-ভাবনার সময় এসেছে।

সহচরী ৯ রোজমেরী মিতু রিবেইরো

Sahachari 4Mitu 5

 

 

জুলাই মাসের সহচরী হলেন মেরীল্যান্ডবাসী রোজমেরী মিতু রিবেইরো। বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতিক ডেলিগেট হয়ে বিদেশে নৃত্য পরিবেশন করেছেন একাধিকবার। ফোক্‌ড্যান্স করেন, এদেশে এসেও নাচ বন্ধ হয়নি। নিজের একটি নাচের স্কুল আছে, এবং ডেলি ও পাব (গিলিস্‌) একাই চালান। নাচ তার ভালোবাসা, Early Childhood Education নিয়ে  পি এইচ ডি করছেন। এহেন একটি সাহসী মেয়ের গল্প এবার আপনাদের কাছে বলব, তবে শুরু করতে হবে রোজমেরীর ছোটবেলা থেকে।

রোজমেরীর জন্ম পুরোনো ঢাকা লক্ষীবাজার অঞ্চলে।দুই ভাই, দুই বোন-সবচেয়ে ছোট মিতু।বাবা ছিলেন সেন্ট গ্রেগরী স্কুলের অ্যাসিন্টেট ভাইস্‌ প্রিন্সিপ্যাল।এই স্কুলে তার দাদারা পড়াশুনা করেছে। মিতু আর তার দিদি পড়েছেন সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার হাই স্কুলে। ছোটোবেলা থেকেই নাচ তার ভালো লাগে। চার বছর বয়স থেকেই নাচের শুরু। ১৯৭৭ সালে ৭ বছর বয়সে জাগো আর্ট সেন্টারে তার নাচের প্রশিক্ষণ শুরু হল। তারপর আর থামেন নি। ১২ বছর ধরে শিখেছেন লোকনৃত্য (প্রধান), ভারতনাট্যম, কত্থক, মণিপুরী নাচ।লোকনৃত্যের গুরু গওহর জামিল। গুরু ১৯৮১ সালে পথ-দূর্ঘটনায় মারা যান। ভারতনাট্যম শিখেছেন বিলায়েত হোসেন খানের কাছে আর কত্থকের গুরু শ্রী নিকুঞ্জবিহারী পাল।

Mitu 2

মিতুর নাচের অনপ্রেরণা হলেন তার মা। মায়ের একান্ত ইচ্ছা আর উদ্যমে মিতুর নাচের জীবণে প্রবেশ সেই ছোট্টবেলা থেকে। দিদি গান গাইতেন, ছায়ানটের ছাত্রী, বড়দাদা গিটার বাজাতেন আর ছোটভাই তবলায়। পুরো পরিবারটি সুর, লয়, তাল, নাচ ও গানে মেতে উঠতেন।

এখানে শিশুশিল্পী হিসেবে মিতুর কিছু পুরস্কার প্রাপ্তির কথা বলি।১৯৭৭ সালে ঢাকা বেতারকেন্দ্রের ২৫ বছর জুবিলীতে শিশু-শিল্পীদের লাইভ নৃত্যনাট্য পরিবেশিত হয়। এখানে মিতু বিশেষ পুরস্কার পান শিশুশিল্পী হিসেবে।এছাড়াও বেতারে “কলকাকলীর আসর” নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন শিশুশিল্পী হিসেবে। এরপর ১৯৮১ তে জাতীয় নাট্য প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী, ১৯৮৬ সালে কত্থকে বাংলাদেশ জাতীয় শিশু পুরস্কার পান। এই প্রতিযোগিতা পাঁচটি পর্যায়ে হয়েছিল- জেলা, উপজেলা, আঞ্চলিক, বিভাগ ও জাতীয়।

এদিকে পড়াশুনা চলেছে জোরকদমে। ম্যাট্রিক পাশ করে উইমেন্স্‌ ফেডারেশন কলেজে কমার্সে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি এ পাশ করে মাস্টার্স করেন আকাউন্টিং এর ওপর। ইতিমধ্যে তিনি সরকারী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টিভির এনলিষ্টেড আর্টিষ্ট। নিয়মিত প্রোগ্রামের জন্য ডাক পান। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাপানে ওকায়ামা ইন্টারন্যাশন্যাল ফেষ্টিভ্যালে ১৫ দিন লোকনৃত্য পরিবেশন করে্ন। ১৯৯৩তে সাউথ কোরিয়া যান সরকারের পক্ষ থেকে  ফেস্টিভ্যাল এক্সপো ৯৩। ১৯৯০-১৯৯৪ সার্ক কনফারেন্স ও সার্ফ গেম্‌স সরকারী নৃত্যশিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন।

এদেশে এলেন ১৯৯৫ এর শুরুতে, বিয়ে হল। নাচ চলতে লাগল। যখন যেখানে সু্যোগ পান, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, অন্যদের নাচ শেখান আর মনে আনন্দ পান। ১৯৯৮  সালে বড়ছেলে হল। ইতিমধ্যে ২০০০ সালে এম বি এ করলেন ডাউলিং কলেজ (Dowling College)।২০০২ তে ছোটছেলে এল। ইতিমধ্যে Early Childhood Education  এ degree নিয়ে Little Sunshine Learning Center  খুলে ফেললেন বাড়িতেই। বেশ কিছুদিন চলল। ইতিমধ্যে ২০০৭ সালে Education  এ Ph.D র কাজ করতে শুরু করেন Walden University। সে কাজ এখনও শেষ হয়নি। ২০১৩ এ আবার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে  Johns Hopkins University তে Program Quality Control Specialist হিসেবে ২ বছর কাজ করেন। ২ বছর Childcare Center এর Director হয়ে কাজ করেছেন। ব্যাক্তিগত জীবনে ২০১০ সালে মাকে হারান। মা ছিলেন তার সবকিছুর প্রেরণার মূলে। Ph.D শুরু করা মার উৎসাহে। ২০১৮ তে বাবাও চলে গেলেন।

মিতুর নাচের স্কুলের নাম সৃষ্টি। এই নাচের স্কুলটির মূখ্য উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশের লোক-নৃত্য এবং সংস্কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সংরক্ষণ করা। এছাড়াও তাদের বিভিন্ন নাচ সম্বন্ধে প্রশিক্ষণ দেওয়া। ২০১০ থেকে নাচের প্রোগ্রাম করেছে সৃষ্টি স্কুল। ২০১৬ তে “Peace through dance” প্রোগ্রামটি বেশ সুনাম অর্জন করেছিল।

Mitu 6

এবার আসি রোজমেরীর জীবনের বর্তমান পর্বে। ইচ্ছা হল নিজের বিজনেস করবেন। এ ব্যাপারে অনেক ভেবেচিন্তে ২০১৮ র নভেম্বর মাসে Gilly’s deli and pub এর বিজনেস take over করলেন। এই পাবটির অনেক পুরোনো customer/patron আছেন যারা নিয়মিত আসেন এবং এই ডেলি ও পাবটিকে ভালোবাসেন। এর আরেকটি কারণ হল রোজমেরী বিজনেসটি কেনার পর খুব একটা অদল-বদল করেন নি। ম্যানেজার এবং পুরোনো কর্মীরা সবাই কাজে বহাল আছেন। কাজেই যারা আগে আসতেন মালিকানা বদলের আগে, তাদের কাছে পাবটি আছে আগের মতোই, এমনকি মেনুও। আমার Gilly’s এ গিয়ে Cheers  টিভি সিরিয়ালটির কথা মনে পড়ে গেল। একদম সেইরকম আন্তরিক পরিবেশ আর আছে একটা কিছু যা Gilly’s এর নিজস্ব। গত ছয় মাসের মধ্যে Blackflag  এর সঙ্গে collaboration এ বেরিয়েছে “Celebrew” এটা Gilly’s -এর নতুন ব্র্যান্ড। 6.8 HPA  টেষ্টলেভেল,  যা সবাই খুব পছন্দ করে। এই প্রথম নিজের ব্র্যান্ডের কিছু বার করে খুব আনন্দ পেয়েছেন রোজমেরী এর আগে কখনো Gilly’s এর নিজস্ব কিছু বেরোয়নি। কাজেই এর মধ্যে Creativity -র একটা আনন্দ তো আছেই। এখানে মূলতঃ Craft Beer  (tap beer) ,Can  beer, Wine, Vegetarian wine  পাওয়া যায়। এদের ডেলির স্যান্ডুইচ নিজস্ব।খুব নাম আছে।

Mitu 3

এইপ্রসঙ্গে একটু বিয়ার সম্বন্ধে বলে রাখি। বিয়ার তৈরী করাকে বলে ব্রিউয়িং। মল্ট কে প্রথমে ছোট ছোট টুকরোতে ভেঙ্গে, তার সঙ্গে এন্‌জাইম মিশিয়ে কিছুদিন রাখা হয়। তারপর ইষ্ট (Yeast) দিয়ে ফারমেন্টেশন ভ্যাট (Fermentation Vat) -এ রাখা হয়। এর সঙ্গে মেশানো হয় হপ্‌স (Hops)  নামে একধরণের লতানো গাছ (vine)। হপ্‌স-এর অ্যান্টি- ব্যাকটিরিয়াল গুণ ব্যাকটিরিয়া জন্মাতে দেয় না ভ্যাটের মধ্যে। আর আছে হপ্‌স -এর বিশেষ কেমিক্যাল যা বিয়ারের স্বল্প তেঁতো স্বাদের কারণ। নিউ বেলজিয়াম ব্রিউয়িং কম্পানির বিয়ার তৈরীর এক নতুন উপকরণ হল হেম্প (Hemp)। উদাহরণ হিসেবে যদি বলি Hemperor HPA is 7% HPA , তাহলে মানে হল এটা এক ধরণের পেল এল (Pale Ale) ব্রিউ করা হয় হপ্‌স (এক ধরণের গাছ, যেটি দিয়ে ওয়াইন ও বিয়ার ব্রিউ করা হয়) ও হেম্প দিয়ে। এবারে বলি “পেল এল” এর কথা।এটি এক ধরণের বিয়ার তৈরী হয় “পেল মল্ট” থেকে যাতে মল্ট ও হপ্‌স সমান অনুপাতে থাকে।যেমন, IPA, India Pale Ale, এক ধরণের হপ্‌স সমৃদ্ধ বিয়ার “পেল এল” জাতীয় বিয়ারের মধ্যে পড়ে। আরো আছে, Double IPAs, Imperial IPAs, অ্যালকোহল ৭.৫%।

Mitu 1aগিলিস্‌ পাবে HPA, IPA জাতীয় প্রচুর বিয়ারের স্টক আছে যার জন্য বিয়ারপ্রেমীরা নিয়মিত আসেন তাদের এই প্রিয় পাবে বিয়ার পান করতে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডার স্বাদ নিতে। এছাড়াও মিতু তার পাবের কর্মীদের নিয়ে শুরু করেছেন Celebrew Outdoor Celebration। যা বিক্রী হয়, তার ১০% যায় অন্ধদের সাহায্যে জন্য। আরেকটি Outdoor Activity হল Oktoberfest , একটি ফেষ্টিভ্যালের মতো। এটি তার পাবের পুরোণো Patron দের অনুরোধে নতুন শুরু হয়েছে- বিয়ার আর মিউজিসিয়ানদের নিয়ে Outdoor fun। এছাড়াও গিলিস্‌-এর নিজস্ব ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম (Website, Facebook, Instagram)আছে। এখানে কিছু বিয়ারপ্রেমী মানুষ আসেন যারা প্রত্যেকে ডক্টরেট করেছেন বিয়ার ব্রিউয়িং এর ওপর। এরা এখানকার স্থানীয় খবরের কাগজে তারা নিয়মিত লেখেন মেরীল্যান্ড ও বাইরের ব্রিউয়ারী সম্বন্ধে। প্রত্যেক মাসের দ্বিতীয় সোমবার তারা মিলিত হন তাদের এই প্রিয় পাবে কিছুক্ষন সময় কাটাতে। গিলিস্‌ এর নিজস্ব ওয়াইন ক্লাস হয়(Wine class) প্রত্যেক quarter-এ। মিতু জানালেন একটি দম্পতির কথা। তাদের প্রথম আলাপ এই পাবে, পরে বিয়ে করেছে এবং এখনো আসে এই পাবে। মিতুর কথায় গিলিস্‌ একটি ঘরোয়া, ফ্রেন্ডলি ডেলি ও পাব যেখানে কর্মীরা খুব সমঝদার এবং রেগুলার প্যাট্রনদের তাদের নামে চেনে।

এতক্ষণ বলছিলাম মিতুর কথা। এবার শেষ করার আগে তার ছেলেদের কথা একটু বলি। ছেলেরা বড় হয়ে গেছে। বড়ছেলে কলেজে আর ছোটছেলে সামনের বছর হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েট করবে। দুইছেলেই আমেরিকান ফুটবল, বাস্কেটবল খেলে। বড়জন তাইকোওনডু তে 3rd degree blackbelt, ছোটজন 2nd degree blackbelt। মিতুর পরিবারের সবাই (দুই দাদা ও দিদি) মেরীল্যান্ডবাসী। বাবা ও মা মৃত্যুর আগে ওবধি মেরীল্যান্ডেই বাস করেছেন।

মিতুর সম্বন্ধে আগেই শুনেছিলাম। কথা বলে আরো অনুপ্রাণিত হলাম।মিতুর কথায় নাচ তার প্যাশন, এডুকেশন নিয়ে পি এইচ ডি করছেন, এরি পাশাপাশি বিজনেস ‘গিলিস্‌” চলছে। আমার এই সহচরীর জন্য আমার একান্ত শুভেচ্ছা রইল।

সহচরী ৮, রীতা কর্মকার

Sahachari 4

সহচরী ৮ রীতা কর্মকার

আন্তর্জাতিক মিউসিক দিবস ছিল গত শনিবার। এটা জুন মাস। এই মাসের সহচরী হলেন ক্যালগরিবাসী রীতা কর্মকার। রীতার খবর আমি পাই আমার বন্ধু কাকলির কাছে।  এম বি এ রীতার নিজের একটি কন্‌সাল্টিং ফার্ম আছে।এছাড়াও প্রসিদ্ধ গানের শিল্পী, সুরকার, গানের স্কুল আছে এবং মিউসিক ইনস্ট্রাক্টার (Instructor)। রীতা স্ত্রী এবং মা। এক্কেবারে দশভুজা। নাঃ এভাবে না, রীতার সম্বন্ধে বিস্তারিত জানলে তবেই আপনারা বুঝতে পারবেন কেন আমি রীতাকে দশভুজা বললাম।

রীতার জন্ম ঢাকায়। বাবা ছিলেন গভর্ন্মেন্ট চাকরীতে। অনেকবার চাকরীসুত্রে বদলী হয়েছেন।ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে গানের পরিবেশ ছিল। ওস্তাদজী আর তবলাবাদকের সঙ্গে গানের চর্চা চলত। তারপর মা একদিন জোর করে ভর্তি করে দিলেন প্রসিদ্ধ গানের স্কুল “ছায়ানট”-এ। রীতা তখন কার্টুন দেখতে ভালোবাসেন। বেশ রেগেমেগেই গেলেন গান শিখতে। কিন্তু সেই তার গানের জগতে প্রবেশ। ছায়ানটে শিখেছেন ৭ বছর। ট্রেনিং শেষ করে প্রসিদ্ধ সাংস্কৃতিক যোদ্ধা ও বিশ্বভারতীর পি এইচ ডি সঞ্জিদা খাতুনের হাত থেকে উত্তরীয় ও রবীন্দ্রসঙ্গীতে সার্টিফিকেট নিয়ে রীতার যাত্রা শুরু হল গানের জগতে গায়িকা হিসেবে।

গানের পাশে পাশে পড়াশুনা কিন্তু থেমে থাকেনি। ভারতেশ্বরী রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে ক্লাস এইট থেকে ক্লাস টুয়েল্ভ ওবধি পড়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস আডমিনিস্ট্রেশন নিয়ে পড়াশুনা করেন। স্কুল থেকেই সংগঠন করে প্রোগ্রাম করেছেন। ইউনিভার্সিটির স্যোসালে ডিপার্টমেন্টের ছোট অর্গানাইজেসনের হয়ে প্রোগ্রাম করেছেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে বি কম (Honors) ও এম কম পাশ করলেন। ২০০০ সালে প্রথম ক্যানাডায় আসেন। এখানে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালগরিতে  ১৪ বছর ইঞ্জিনীয়ারিং কেরিয়ার সার্ভিসেস-এ চাকরী করেন। এখান থেকে এম বি এ করে নিজের কন্সাল্টিং ফার্ম খোলেন।

রীতা ক্যালগরির মাউন্ট রয়াল ইউনিভার্সিটির ইন্ডিয়ান ক্ল্যাসিক্যাল মিউসিকের ইনস্ট্রাক্টার। এছাড়াও ইঊনিভার্সিটি অফ ক্যালগরির ডিপার্টমেন্ট অফ  ক্ল্যাসিক আন্ড রিলিজিয়নের ইনভাইতেড স্পিকার হিসেবে মিউসিক এভোলিউসানের (Evolution) ওপর লেক্‌চার দেন প্রতিবছর। বিষয়টা হল কিভাবে সুরে্র উদ্ভব হল সামবেদের স্ত্রোত্রপাঠের সুর আর ছন্দ থেকে বর্তমান মিউসিকে।

২০০০ সালে ক্যালগরিতে প্রথম গানের জগতে প্রবেশ SILPA(School of Indian Language and Performing Arts) সংস্থাতে ভলান্টিয়ার টিচার হিসেবে। এখানে ভারতীয় ভাষা, গান, নাচ শেখানোর হয়। রীতা এখানে গানের শিক্ষিকা হিসেবে প্রথমে গানের ক্যারিকুলাম তৈরী করলেন একটা কাঠামো দেবার জন্য।পরবর্তীকালে পারফরমিং আর্টস্‌ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন।

বিদেশে এসেও যে সঙ্গীত হারিয়ে যায় না, তার প্রধান প্রমান রীতা।এখানে বিভিন্ন প্রোগ্রামে গান গাইতে শুরু করলেন।  ১০০ জনকে  নিয়ে “শতকন্ঠে বাংলাদেশ” গানের প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন। বঙ্গভঙ্গ থেকে আধুনিক গানের ওপর।এছাড়াও রাগমালা মিউসিক সোসাইটির আমন্ত্রণে আসা পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী এবং পন্ডিত যসরাজের সংগে তানপুরায় সংগত করেছেন। ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রের ক্ল্যাসিক্যাল গানের শিল্পী ডাঃ থাট্টে ভাটের কাছে ৫ বছর চালিম নিয়েছেন রীতা। এছাড়াও ছায়ানটের ট্রেনিং তো আছেই।বাড়িতে মিউসিক স্টুডিও করে সবাই কে নিয়ে গান শেখাতে শুরু করলেন।ছাত্র-ছাত্রীরা বাঙালি ও অবাঙ্গালি। বেশির ভাগই দ্বিতীয় প্রজন্ম। আর আছেন কিছু ক্যানাডিয়ান  মিউসিয়ান যারা ইন্ডিয়ান ক্ল্যাসিক্যালের সঙ্গে জ্যাজ্‌ বা ওয়েষ্টার্ন মিউসিকের ফিউসন করতে চান।

ক্যালগরির আর্ট কমন্স্‌ একটি সরকারী সংগঠন যেটি বিভিন্ন ধরনের মিউসিকের একটা প্ল্যাটফর্ম। রীতা এখানে নিয়মিত পারফর্ম করেন। রীতা ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালগরিতে ওয়েষ্টার্ন ক্ল্যাসিক্যালের ওপর কোর্স নিয়েছেন স্টুডেন্ট হিসাবে,  ইষ্টার্ন ও ওয়েষ্টার্ন মিউসিকের তারতম্য ও সংযোগ করতে পারেন। তার এই ইউনিক গুনের জন্য তিনি দুইদিকের মিউসিকপ্রেমীদের কাছে বিশেষ ভালোবাসা ও সন্মান পান।

এবার আমি সুরকার রীতার কথায় আসব। এটাও তার অনেক পরিচয়ের মধ্যে একটা।প্রথম শুরু হয় বাংলাদেশ আসোসিয়েশনের বড় কবি শ্রী মহাদেব সাহার লেখা কবিতা নিয়ে।রিটায়ার্ড হয়ে ছেলের কাছে চলে আসেন এই কবি।অনেক গান লিখেছেন। রীতা তার সঙ্গে তার লেখা কবিতার ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে সুর দিয়েছেন। তৈরী হয়েছে ১০০ র ওপর গান রীতার সুরে।

একবার এক পাকিস্তানী কবি ক্যানাডায় এসেছেন। এদিকে দেশে মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, কিন্তু বাবা তার মেয়ের বিয়েতে যেতে পারছেন না। এই উপলক্ষ্যে একটি শায়রী লিখেছেন, একান্ত ইচ্ছা বিয়েতে মেয়েকে উপহার দেন। রীতা তার কাছে গিয়ে উর্দু শায়রীর কথা বুঝে তাতে সুর দিয়ে, সেই গান নিজে গেয়ে রেকর্ড করে দিয়েছেন। বাবা তার লেখা, রীতার সুর ও গানের সেই শায়রী মেয়েকে যথাসময়ে পাঠান বিয়ের উপহার হিসেবে।

এছাড়াও চলে তার কোলাবরেশনের কাজ।লোকাল মিউসিয়ানদের সঙ্গে মিউসিকের ওপর আলোচনা ও চর্চা চলে। পিয়ানোর নোটস্‌ নিয়ে বিস্তারিত রিসার্চ করে ইষ্টার্ন মিয়সিকের সঙ্গে ওয়েষ্টার্ন মিউসিক মেশান রীতা, যাতে সেই সুরে গান গাওয়া যায়।

মিউসিকে তার অবদানের জন্য ক্যালগরির হিন্দু মন্দিরে গুরুপূর্নিমায় অনেক সিনিয়ার লেভেলের গুরুর সঙ্গে মিউসিক গুরু হিসেবে সন্মানিত হয়েছেন রীতা। মিউসিক কম্পিটিসনে মিউসিক জাজ্‌ হিসেবে নিয়মিত যোগদান করেন।কম্পিটিসনের শেষে বিস্তারিত আলোচনা করেন র‍্যাঙ্কিং এর ওপরে।কিভাবে র‍্যাঙ্কিং করা হল, কেন করা হল ইত্যাদি।রীতার এই আলোচনা সবাই খুব পছন্দ করেন।

রীতার পছন্দের প্রোগ্রাম-যেখানে পারফর্ম করে তার ভালো লেগেছে- আর্ট কমন্স্‌ এর “লাভ নোটস্‌” যাতে মিউসিকের দ্বারা সবাইকে সংগঠিত করা যায়। “ওয়াল্ড মিউসিক” জ্যাজ্‌ মিউসিকের সঙ্গে তারাণা ব্লেন্ড করে স্টেজে পার্ফম করেছেন যেখানে রীতা একমাত্র ইষ্টার্ন মিউসিয়ান, বাকি সবাই ওয়েষ্টার্ন মিউসিয়ান।

এছাড়াও রীতা গত চার বছর ধরে বাংলাদেশ-ক্যানাডা আসোসিয়েশন অফ ক্যালগরি র সাংস্কৃতিক সেক্রেটারী। মিউসিকের জগত ছাড়াও রীতার পারিবারিক জীবন আছে। স্বামী রঞ্জন নন্দী, পেশায় চাটার্ড আকাউটেন্ডেট এবং তার নিজের একটি ফার্ম আছে। মেয়ে রিকুল (১৪) ও ছেলে রাতুল (৭)। তারা দুজনেই স্কুলের কয়ারে গান করে, তবে ইন্টারেষ্ট স্পোর্টস্‌ এ।

এখন পর্যন্ত আমাদের পরিচয় হল সঙ্গীত শিল্পী, সুরকার, ইনস্ট্রাক্টার, সঙ্গীত গুরু, সঙ্গীত জাজ, বিজনেস কন্সালটেন্ট, স্ত্রী ও মা রীতার তার সাথে। এখন দেখলেন তো কেন আমি বলেছিলাম দশভুজা রীতা।

ইচ্ছা আর উদ্যম থাকলে একজন মানুষ জীবনে অনেক কিছু করতে পারে। তার প্রমাণ রীতা।আমার রীতার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।

আমার কথা, জুন ২০১৯

cropped-sahachari-pic-1

আমার কথা জুন, ২০১৯

জুন মাস চলে এল, আজকে ১৫ই জুন। এই মাসের সহচরীর পোষ্টএর জোর প্রচেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কলকাতা-তথা পশ্চিমবঙ্গে জুনিয়ার ডাক্তারদের জোর আন্দোলন চলছে। প্রচন্ড কাজের চাপ কমানোর জন্য। মনে পড়ে অনেক বছর আগে (আমি তখন ইউনিভার্সিটি তে পড়ি) এরকম আন্দোলন হয়েছিল। এদেরকে ছাড়া হাস্পাতাল চলবে না, আর এদের কে দিয়েই বেশিরভাগ পেশেন্ট দেখার কাজ করানো হয়। তাই এদের কথা কিছুটা তো মানতেই হবে। এরা এদেশের রেসিডেন্ট ডাক্তার দের মতো। কিন্তু ন্যুনতম সন্মান টুকু যদি না দেওয়া হয়, তাহলে খুব দুঃখের কথা। শুনছি এরা জনতার কাছে, পেশেন্টদের পরিবারের কাছে মার খাচ্ছেন! কার কতটা দোষ জানিনা আর এত দূরে বসে নিক্তিতে মাপা সম্ভব নয়। তবু মনে হয় সরকারের উচিত এদের কথা শুনে সমস্যার সমাধান করা।

গতসপ্তাহে ছিল আন্তর্জাতিক সঙ্গীত দিবস। সেই উপলক্ষ্যে আমার এই মাসের সহচরী হলেন রীতা কর্মকার। ক্যানাডাবাসী রীতা একজন সঙ্গীত শিল্পী, মিউসিক নিয়ে ইউনিভার্সিটিতে পড়ান, গানে সুর দিয়েছেন, মিউসিক নিয়ে রিসার্চ করেন ইষ্টার্ন ও ওয়েষ্টার্ন মিউসিকের ফিউসন করার জন্য ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু নাঃ আর বলছি না! বাকিটা সহচরীতে পড়তে হবে।

পরের মাসে, জুলাই এর প্রথমে বঙ্গ সন্মেলন হচ্ছে বাল্টিমোরে। ইচ্ছা আছে এই নিয়ে কিছু লেখার আমার ব্লগে। আবার ফিরে আসব আপনাদের কাছে পরের মাসে।

সহচরী ৭ সুকন্যা ঠাকুর মুখ্যার্জী

কবিগুরুর জন্মতিথি উপলক্ষে এবার আমার সহচরী ৭ হলেন ঠাকুরবাড়ীর মেয়ে সুকন্যা ঠাকুর মুখার্জী। গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর সুকন্যার প্রপিতামহ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন গগনেন্দ্রনাথের কাকা। পিতামহ কনকেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন গগনেন্দ্রনাথের ছোটছেলে। এই হল বাবার দিকের পরিচয়। মায়ের দিক থেকে চিল্ড্রেন্স লিটিল থিয়েটার (সি এল টি) বা অবনমহলের সৃষ্টিকর্তা শ্রী সমর চ্যাটার্জী হলেন তার মাতামহ।এই দাদু ছোট্ট সুকন্যার (ঝুমকু)জীবনে খুব প্রভাব ফেলেছেন। বাড়ীতে গান-বাজনার পরিবেশ ছিল। যোগসাহেব (ভি জি যোগ) খুব আসতেন। দেখেছেন দাদুর সঙ্গে সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণা্ন, জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধীর ছবি। কিন্তু সেগুলো কোনোদিনই ডিস্প্লেড হয় নি।দাদু ছবি টাঙিয়ে রাখায় বিশ্বাস করতেন না।বাড়িতে প্রচুর নামীদামী লোক আসতান দাদুর সুত্রে। সি এল ট তে ছোট্ট ঝুমকুর যাওয়া শুরু হয় ৩ বছর বয়স থেকে। তখন সি এল টির অবস্থান ছিল দেশপ্রিয় পার্কের একটি ভাড়া বাড়িতে।এরপর ডাঃ বিধান রায়ের ডোনেট করা জমিতে তৈরী হয় সি এল টি। এর সংক্রান্ত একটি খেলার মাঠ ছিল। কিন্তু সেটি আর খেলার মাঠ হিসেবে রাখা যায় নি। দাদু সমর চ্যাটার্জী  অনেক উদ্যমে অনেক গ্রান্ট পেয়ে অবনমহল তৈরী করেন।

ছোটবেলা থেকেই অবনমহলের এই স্রষ্টার প্রভাব পড়েছিল  ছোট্ট সুকন্যার ওপরে।স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে কোনোরকমে হোমওয়ার্ক শেষ করেই গাড়িতে চেপে বসতেন সি এল টি যাবার জন্য।ক্লাসে গিয়ে বসে নাচ দেখতে তার খুব ভালো লাগত।কিন্তু দানুর ধারণা ছোট্ট ঝুমকুর নাচ হবে না। দিদা মোটেই মানবার পাত্রী নন। একদিন দিদা দক্ষিনীতে ভর্তি করে দিলেন নাচ শেখার জন্য।সেই হল নাচের শুরু। লরেটো স্কুলে পড়েন সুকন্যা। রক্তে আছে নাচের ছন্দ!সেখানে বিখ্যাত পলিটিক্যাল লিডার সাধন গুপ্তর মেয়ে চান্দ্রেয়ী ছিল তার সঙ্গী। চান্দ্রেয়ী ভালো গান গাইতো। দুজনে মিলে একসঙ্গে প্রোগ্রাম করতেন।লরেটোর নানরা বলতেন গুপ্তা আন্ড টেগোর সিঙ্গিং ডান্সিং  টিম।স্কুলের মেয়েদের নাচ শিখিয়ে রবিঠাকুরের নৃত্যনাট্য করিয়েছেন স্কুলের ফাংসানে বহুবার।ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে লিডারশিপের একটা প্রবণতা ছিল।একবার চন্ডালিকা নৃত্যনাট্য হচ্ছে তার তত্ত্বাবধানে, তিনি করছেন “আনন্দ”-এর রোল। সবাইকে তৈরী করিয়ে নিজে যখন “আনন্দ” হয়ে স্টেজে ঢুকছেন, তখন তার  মাথায় বিনুনী আর চোখে চশমা! সবাইকে তৈরী করিয়ে নিজে রেডী হতে ভুলেই গেছেন! এইভাবেই তরতর করে স্কুলের সিনিয়ার কেম্ব্রিজ পাশ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইকনমিক্স নিয়ে পড়তে ঢুকলেন। জিওলজীতে পড়ার ইচ্ছা ছিল। প্রেসিডেন্সীতে চান্স পেয়েছিলেন। কিন্তু দাদুর একদম ইচ্ছা ছিল না তার আদরের নাতনীর ফিল্ডট্রিপে যাওয়ায়।

এরমধ্যে ১৯ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে গেল। স্বামী শমীন মুখ্যার্জী, পেশায় ইঞ্জিনীয়ার।শ্বশুরবাড়ি ছিল খুব উদার।শ্বশুর ছিলেন উদার, শাশুড়ি আর্টস্কুলে পড়েছেন। স্বামী শমীনের দাদু ছিলেন শ্রী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। বিয়ের পরপর পার্ট ওয়ান পরীক্ষা। কিছুতেই দিতে চাইছিলেন না। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির নির্দেশ “পরীক্ষা তোমাকে দিতেই হবে”। অগত্যা কি আর করা! পরীক্ষা দিতে হল। পার্ট ওয়ান আর পার্ট টু পাশ করে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ পড়তে ভর্তি হলেন নৃত্য নিয়ে। বি এ পাশ করার ক্রেডিট তিনি সম্পূর্নভাবে দেন তার শ্বশুরবাড়ীকে।ঝুমকু বারংবার স্বীকার করেন তার শ্বশুরবাড়ীর উদারতার কথা। এম এ পড়ার সময় রবীন্দ্রভারতীতে ক্লাস করে গুরুজীর কাছে নাচ শিখে প্রত্যেকদিন রাত ১২টা থেকে দুটো ওবধি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে স্বামীর সঙ্গে বাড়ি ফিরতেন। বাড়ী থাকতেন সাকুল্যে প্রায় ৬ ঘন্টা।

ইতিমধ্যে বেশ কিছু ধরনের ক্ল্যাসিক্যাল ড্যান্সে ট্রেনিং নেওয়া হয়ে গেছে। তবে তার বিশেষ পারদর্শিতা হল ওড়িসি নাচে। পদ্মবিভূষণ গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র তার ওড়িসি নাচের গুরু। এছাড়াও শ্রী বালাকৃষ্ণ মেনন এবং শ্রী চিত্রেশ দাসের কাছে নাচ শিখেছেন। এম এ পাস করলেন গোল্ড মেডেল নিয়ে। এম এ পাশ করে পি এইচ ডি করার ডাক পেলেন সঙ্গীত নাটক একাডেমীতে শ্রীমতী কমলা দেবী চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। বলেছিলেন সোম থেকে শুক্র এখানে থেকে পি এইচ ডির কাজ করবে, তারপর শনি-রবিবার বাড়ি ফিরে যাবে। কিন্তু ততদিনে এদেশে আসার ডাক পেয়ে গেছেন স্বামী। শমীন পড়তে এলেন এম আই টি তে, বোষ্টনে।ঝুমকু আসিন্টেটসিপ পেয়েছিলেন স্ট্যানফোর্ড এ। কিন্তু যান নি স্বামীকে ছেড়ে। এই নিয়ে তার কোনো দুঃখ নেই। স্বামী কোনোদিন তার কোনো কাজে বাঁধা দেন নি।

এরপর পাড়ি আমেরিকায়। সময়টা ১৯৮৪ সাল।প্রথমে আভন প্রোডাক্ট সেল করতেন। এরপর কেম্ব্রিজে একজন প্রফেসারের কাছে ডাটা প্রসেসিং এর কাজ করেছেন কিছুদিন।এরমধ্যে হারভার্ড এ সামার স্কুলে কোরিওগ্রাফি নিয়ে কাজ শিখলেন কিছুদিন।

বছরখানেক বাদে স্বামীর সাথে ওয়াসিংটন ডিসিতে চলে এলেন। অনেক নাচ করেছেন লোকাল অনুষ্ঠানে। একবার সংস্কৃতিতে পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর গানের পর নাচ করেন। ১৯৮৭ সালে মেয়ে হল। কিন্তু নাচ থেমে থাকেনি। যে যখনি ডাকত, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতেন। মেয়ে একটু বড় হলে নাচ শেখাতে শুরু করলেন। সেই সময়ে কমুউনিটির বাচ্ছাদের নিয়ে দাদুর তৈরী সি এল টির “অবনপটুয়া” করলেন।সেই থেকে স্কুল তৈরী করার কথা মাথায় এল।প্রথমে তিনটে বাচ্ছা নিয়ে স্কুল আড়ম্ভ হল।১৯৯৩ সালে তার স্কুল ময়ূর এর শুরু। এখন বড় স্কুল হয়েছে। ১৯৯৩-২০১৯, প্রায় ২৬ বছর ধরে স্কুল চালিয়ে যাচ্ছেন ঠাকুর পরিবারের এই মেয়ে।

বেশীরভাগ চ্যারিটি প্রোগ্রাম করেন। অর্থ যা ওঠে, ফুড ব্যাংকে দিয়ে দেন।ময়ূর এর মধ্যে কলকাতায় গিয়ে চ্যারিটি প্রোগ্রাম করে প্রায় ১ লাখ টাকা সি এল টি তে ডোনেট করা হয়েছে। আরেকটি কথা লেখা খুব জরুরী। ময়ূরের ছাত্র-ছাত্রীদের নাচের পোষাক- যা মঞ্চে নাচার জন্য খুবই দরকারী।ড্রেস এর ফ্যাব্রিক, ডিসাইন, রঙ পছন্দ করা, বানানো এবং দেশ থেকে নিয়ে আসা- সবই তিনি করেন।

অনেক ছাত্র-ছাত্রী তৈরী করেছেন। স্বামী খুব চাকরীসুত্রে ট্যুরে যান। তাই তিনি নিজে বাড়িতে নাচের স্কুল নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। সুকন্যার মতে নিজে কাজ করে খুশী থাকাই ভালো। ১০০ জনের মধ্যে ১০ জন সত্যিকারের নাচের শিল্পী তৈরী হয়। তাই তিনি এই ভবিষ্যত প্রজন্মকে নিয়ে নাচের শিল্পী তৈরী করার প্রচেষ্টায় মেতেছেন। মেয়ে মিশকাকে নিজে হাতে তৈরী করেছেন। সেও ভালো নাচে। ময়ূরের হয়ে প্রোগ্রাম করে।

সুকন্যা মানুষ খুব ভালোবাসেন। ভালো লাগে আড্ডা দিতে। বেড়ানো আর নাচ এই তার দুই প্যাশন। প্রচুর দেশ ঘুরেছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে জর্ডন। তবে চয়েস করতে বললে, তিনি নাচকেই নেবেন। তার নিজের কথায়- “নাচ যখন করবে শুধু যদি আনন্দ নিয়ে করো তবেই ভালো লাগবে। যদি আনন্দ না পাও তবে ফল ভালো হবে না”।

মেয়ে মিশকা, ছেলে সাগ্নিক দুজনেই চাকরী করে। এখন বাড়িতে শুধুই স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু বাড়ি মোটেই খালি নয়। রোজই চলে ময়ূরের নাচের ক্লাস। এই নিয়েই বেশ আছেন সুকন্যা। আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল সুকন্যার জন্য।

 

আমার কথা মে, ২০১৯

cropped-sahachari-pic-1

আমার কথা মে’ ২০১৯

২৫ শে  বৈশাখ এল আবার চলেও গেল। আমার লেখা পোষ্ট করতে এবার একটু বেশী দেরী হয়ে গেল।আমাদের জীবনে রবিঠাকুর ওতপ্রত ভাবে জড়িয়ে আছেন। জীবনে এমন মুহূর্ত আসেনা যাতে আমরা তাঁকে স্মরণ করিনা!  কি আশ্চর্য তাই না! আমাদের সবরকম মোমেন্টের গান লিখে গিয়েছেন এই অসাধারণ মানুষটি।

জীবন এখন এক গভীর দিঘির জলের মতো শান্ত, জলে পরিপূর্ণ। জলের ঢেউ অনেক স্থিমিত। জীবনের এই পর্যায়ে এসে যখনই কবিগুরুর সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়, ক্রমশঃই তাঁর কথার মধ্যে ডুবে যাই। কথার গভীরত্ব অনুধাবন করতে সময় লেগে যায়। ঠিক যেন গীতার শ্লোকের মতো! প্রতিবারই যখন পড়ি, প্রতিটি শ্লোকের মানের গভীরতায় মগ্ন হয়ে যাই। ভাবি কী ভীষণ গভীরতা আর আধ্যাত্মিক ভাবনা নিয়ে গান/কবিতাগুলি লিখেছিলেন আমাদের সেই ভালোবাসার মানুষটি।

এখন এই প্রবাসে, দিঘির শান্ত, গভীর টলটলে জলে ভাবি আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম, যারা এদেশে জন্মেছে, তারা কি পারবে এর গভীর রহস্য-ভাবনা অনুধাবন করতে আর এর চর্চা টেনে নিয়ে যেতে? নাকি, আমাদের সঙ্গেই শেষ হয়ে যাবে! যতদিন বেঁচে আছি এই ভাবনা ভেবে যাব আর চেষ্টা চালিয়ে যাব যাতে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে এই অসাধারণ সৃষ্টি যেন এদেশে হারিয়ে না যায়।

এমাসের সহচরী হলেন সুকন্যা ঠাকুর মুখ্যার্জী। ঠাকুরবাড়ির মেয়ে। শুধু তাই নয়, জীবনে প্রতিটি মুহূর্তে কবিগুরুর প্রভাব পড়েছে। প্রপিতামহ রবিঠাকুরের ভাইপো গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। মাতামহ হলেন বিখ্যাত অবনমহল অর্থাৎ সি এল টি র প্রতিষ্ঠাতা শ্রী সমর চ্যাটার্জী। আশা রাখি সুকন্যাদির কথা পড়তে আপনাদের ভালো লাগবে।

সুকন্যাদির কথা লিখতে গিয়ে আমার খুব ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে। বাড়ির কাছেই ছিল সি এল টি। প্রায়ই ছোটদের প্রোগ্রাম দেখতে যেতাম। আমার ছোটবোন সেই তিন-চার বছর থেকে নাচ শিখেছে ওখানে। অনেক প্রোগ্রাম দেখেছি। তাছাড়া ওকে ক্লাসে পৌছে দেওয়া, নিয়ে আসা- এসবের জন্য সি এল টি তে যাতায়াত ছিল। সমরদাকে দেখেছি। অনেক বছর বাদে আবার সুকন্যাদির জন্য ময়ূরের প্রোগ্রামে

“আন্ডার দা সি”  আর “জিজো”দেখার সৌভাগ্য হল। আমার বোন ছোটবেলায় ড্যান্সড্রামা দুটিতে পার্ট নিয়েছিল সি এল টি তে। আর আমি আবার দেখলাম ওর মেয়ে আর ছেলেকে নাচতে দীর্ঘদিন বাদে ওই একই ড্যান্সড্রামায়। অসম্ভব ভালো লেগেছিল।

খুচখাচ রান্না/এপ্রিল, ২০১৯

IMG_3087

ডিসঃ সিম-ধনেপাতাSahachari 2

রেসিপিঃ মীরা চ্যাটার্জী

উপকরণঃ

১) ১/২ পাউন্ড সিম

২) ১ আঁটি ধনেপাতা

৩)১ চা চামচ কালোজিরা

৪) ১ টি কাঁচালংকা

৫) ২ টেবিল চামচ সর্ষের তেল

 

পদ্ধতীঃ

  • স্টোভে প্যান বসিয়ে দেড় চামচ(টেবিল) সর্ষের তেল দাও। তেল গরম হয়ে গেলে কালো জিরে দিতে হবে।
  • কালো জিরে ফুটতে শুরু করলে, কাঁচা লংকা দিতে হবে।
  • এবার সিমগুলি দিয়ে তেলে একটু নাড়াচাড়া করে ঢাকা দিয়ে দিতে হবে।
  • ৭-১০ মিনিট পর ঢাকা সরিয়ে (দেখে নেবে সিম সিদ্ধ হয়েছে কিনা) পরিমান মতো নুন আর চিনি দিতে হবে।
  • আবার ঢাকা দিয়ে দুই মিনিট রান্না করতে হবে।
  • এবার স্টোভ নিভিয়ে পাত্রে ঢেলে নিয়ে আধ চামচ সর্ষের তেল দিতে হবে।
  •   গরম ভাতের সঙ্গে খুব ভালো লাগে