সহচরী ২/ সুমিত্রা ভট্টাচার্য্য

Sahachari 4

সহচরী ২ সুমিত্রা ভট্টাচার্য্য

এবার আমার সহচরী পর্ব পোষ্ট করতে একটু দেরী হল। কাজের চাপে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমার সহচরী ২ হলেন সুমিত্রাদি- সুমিত্রা ভট্টাচার্য্য। দীর্ঘদিন পরিচয়। আমার ক্লীভল্যান্ড-জীবনের শুরু থেকে। শান্ত-শিষ্ট, স্নেহময়ী এই মানুষটিকে দেখলে বোঝা যায় না যে ভিতরে একজন শক্ত, দৃঢ়চেতা মানুষ আছেন।আরো গুন আছে, ক্রমশঃ প্রকাশ্য।

সুমিত্রার জন্ম কালিঘাটের পটুয়াপাড়া লেন -এর মামাবাড়িতে।কাছেই নিজেদের বাড়ি।সেখানে বড় হয়েছেন দাদু-ঠাকুমা, মা-বাবা ও পিসির স্নেহছায়ায়, দুই দাদা আর ছোটবোনের সংগে।আদি বাড়ি ছিল ঢাকায়। তারপর কলকাতা চলে আসে এই পরিবারটি।

বাবা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী ঢাকায়।পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে ঢাকা থেকে কলকাতা আসার সময় জাহাজে ধরা পড়ে যান। আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে প্রায় বছর আষ্টেক কারাবন্দী ছিলেন।জেলে বন্দী থাকাকালীন বি এ পাশ করেন। মুক্তি পেয়ে ব্যাঙ্কে চাকরী পান। মা ছিলেন অপূর্ব সুন্দরী। খুব ভালো গান গাইতেন। খুব অল্প বয়স থেকেই অনেক গানের প্রোগ্রাম করেছেন। ১৭ বছর বয়সে বিয়ে হবার পর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ল। খুব ভালো সেলাই করতেন। মায়ের তৈরী করা জামা পড়ে বড় হয়েছেন চার ভাইবোন।

এরকম বাবা-মায়ের সন্তান যে বড় হয়ে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হবেন সেটা বলা বাহুল্য।পড়াশুনা দেবেন্দ্র বিদ্যাপীঠে। স্কুলের গন্ডী পেরিয়ে মুরলীধর গার্লস কলেজে ভর্তি হলেন বাংলায় বি এ পড়তে। পরীক্ষার সময় এল ঝড়- বাবা চলে গেলেন অসময়ে, মাত্র ৫০ বছর বয়সে। কলেজে পড়ার আগে থেকেই বাবার শরীর খারাপ। হাইপ্রেসার ছিল আগে থেকেই, স্ট্রোকও হয়ে গেছে।পরীক্ষার চার-পাঁচদিন আগে বাবা ভর্তি হলেন হাসপাতালে সার্জারী হবার জন্য।বাবার জন্য মনখারাপ হলেও যথাসময়ে পরীক্ষা দিতে বসলেন সুমিত্রা।এক্সামিনার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও লেখার খাতা দি্যে গেছেন। প্রথম পাতায় লিখতে গিয়ে পেনের কালিতে পাতা ঢেকে গেল। কোনোমতে লিখে পরীক্ষা দিয়ে বেড়িয়ে এলেন।সাধারণতঃ পরীক্ষার বিরতির সময় মা আসেন খাবার নিয়ে। বেড়িয়ে এসে দেখেন মা নেই, তার বদলে মাসী এসেছেন। একটু অবাক হলেন।মনে উদ্বেগ নিয়ে পরের পরীক্ষায় বসলেন।কিছুক্ষন বাদেই খবর এল বাড়ী থেকে লোক নিতে এসেছে। অর্ধেকলেখা খাতা জমে দিয়ে বেড়িয়ে এলেন।এসেই শুনলেন বাবা মারা গিয়েছেন সকাল দশটায়। মনে পড়ল ঠিক ওই সময়েই তো তার পরীক্ষার খাতা কালিময় হয়ে গিয়েছিল! মনে হল যেন বাবা জানিয়ে গেলেন যে তিনি চলে গেলেন।আর পরীক্ষায় বসতে চাইছিলেন না। কিন্তু মাষ্টারমশাই এর নির্দেশে ওই অবস্থায় পরীক্ষা দিলেন। মনে জানেন পাশ করার কোনো সম্ভাবনা নেই। রেসাল্ট বেরোলে দেখেন যে তিনি পাশ করেছেন। ঘটনাটা খুব অদ্ভুত তাই না! সুমিত্রার ও তাই মনে বিশেষভাবে দাগ কেটেছিল।

এর কিছুদিন বাদেই ১৯৬৯ সালে সুমিত্রা রায়ের বিয়ে হল ইঞ্জিনিয়ার দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যের সঙ্গে। বিয়ের পর সবামীর বিশেষ ইচ্ছায় এম এ পড়তে শুরু করলেন। ১৯৭০ -এ দিব্যেন্দু এলেন আমেরিকার মেরীল্যান্ডের বাল্টিমোর শহরে।কিন্তু তখনো সুমিত্রার পড়া শেষ হয়নি। তখন রাজনৈতিক ডামাডোল চলছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরীক্ষার দিন পিছিয়ে যাচ্ছে, রেজাল্ট বেরোতে দেরী হচ্ছে।তার মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে পড়া শেষ করে ১৯৭১ সালে সুমিত্রা পাড়ি দিলেন আমেরিকায়।

বাল্টিমোর শহরে শুরু হল তাদের সংসার।ইতিমধ্যে স্বামী এম বি এ পড়তে শুরু করেছেন University of Maryland এ। সুমিত্রা IBM -এ কম্পিউটার ট্রেনিং এ ভর্তি হলেন। কাজ করলেন কিছুদিন Johns Hopkins University -তে। Data recording এর কাজ।বছর দুয়েক কাজ করে একটি consulting company Euelle & Bomhardt এ computer record keeping এর চাকরী পেলেন। কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের ছয়জনের মধ্যে তিনি একমাত্র মহিলা।সহকর্মীদের কাছে সন্মান পেয়েছেন। ইতিমধ্যে দিব্যেন্দু নতুন চাকরীতে যোগ দিয়েছেন।

ছেলে সায়ন এল ১৯৭৪ এর ডিসেম্বরে। তার আগে নভেম্বর অবধি কাজ করেছেন। মনস্থির করেছেন ছেলে পাঁচমাস হলে আবার কাজে ফিরে আসবেন। ছয়মাসের ছুটি মঞ্জুর হয়ে গেছে।ছোট্ট সায়ন কে নিয়ে চোখের নিমেষে কেটে গেল পাঁচমাস।ছেলের জন্য ডে কেয়ার ঠিক। কিন্তু যখন সময় এল, মায়ের মন কিছুতেই ছেলেকে পাঠাতে পারল না।অগত্যা আর কাজে যাওয়া হল না। ছেলেকে নিয়ে সুমিত্রা ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন। অনেক সময় কাটিয়েছেন ছেলের সঙ্গে।

ইতিমধ্যে তাদের বাসাবদল হয়েছে মেরীল্যান্ড, ভার্জিনিয়া ও মিশিগানে।মিশিগানে ছিলেন দেড়বছর। মেয়ে ঈশানীর জন্ম এখানে। এর ছয়মাসের মধ্যে দিব্যেন্দু বড় চাকরী নিয়ে BP তে যোগ দিলেন ক্লীভল্যান্ডে। জীবন ক্রমশঃ ব্যাস্ত হয়ে উঠেছে। সবামীর বড় চাকরী, ব্যাস্ত জীবন, ছেলে পড়াশুনা ও অন্যান্য extracurricular activity, ছোটো ঈশানী, সঙ্গে আছেন। ছেলের ১৩ বছর বয়সে তাকে একটি ভালো বোর্ডিং স্কুলে পাঠানোর ব্যাবস্থা হল। কিন্তু মায়ের মন মানবে কেন?খুব মনখারাপ। ছেলে চলে যাবার পর আবার চাকরী করা শুরু করেন ডে কেয়ারে।প্রথমে খুব অল্প সময় কাজ করতেন, কারণ মেয়ে তখনো ছোটো। মেয়ে হাই স্কুলে যেতে শুরু করলে সময় বাড়িয়ে দিলেন এবং রোজ যেতে শুরু করেন। বড় হয়ে ঈশানীও এই ডে কেয়ারে কাজ করেছে কিছুদিন। ৭ বছর কাজ করেন United Way র এই ডে কেয়ারে। এরপর অন্য একটি ডে কেয়ারে কাজ শুরু করেন full time employee হয়ে। ২৪ বছর কাজ করেছেন এখানে। এই দীর্ঘদিন কাজে অনেকবার award পেয়েছেন। Pride Award পেয়েছেন ১৯৯৮ তে।তিনি ছিলেন বাচ্ছাদের প্রিয়। বাবা-মাদের কাছে অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন। তাদের অনেকে এখন তার ফেসবুক বন্ধু, যদিও বাচ্ছারা বড় হয়ে গেছে।

ইতিমধ্যে মেয়ে ঈশানীর বিয়ে হয়েছে এবং কর্মসুত্রে সে এখন ক্লীভল্যান্ডে। তার দুই ছেলে। ঈশানীর ছোট ছেলে হবার পর সুমিত্রা ঠিক করেন তিনি এবার ডে কেয়ার ছেড়ে দেবেন এবং নাতির সঙ্গে সময় কাটাবেন। কিন্তু তিনি বললে কি হবে, তাকে কর্মস্থল ছাড়বে না। এরকম কর্মনিষ্ঠ এমপ্লয়ী ছাড়তে তাদের মন চায় না। অবশেষে এল কাজের শেষদিন। সহকর্মীদের ও বাচ্ছাদের বিদায় জানিয়ে সুমিত্রা কাজ থেকে অবসর নিলেন।

এখন সবামী -স্ত্রী দুজনেই অবসর জীবন কাটান তাদের বিশাল বাড়ীতে। একা নয়, নাতিদের নিয়ে বাড়ী এখন গম্‌গম্‌ করছে। আর কি?  ৪৯ বছর বিয়ে হয়েছে। জীবনে সব কর্তব্য পালন হয়ে গেছে। ছেলে সায়ন Law farm partner New York এ থাকে। মেয়ে ঈশানী Clinical Psychology তে Ph.D করে এখন প্রাকটিস করছে।তাদের জীবন তাদের নিজস্ব।

আমার এই সহচরীকে নিয়ে লিখব ভাবলাম কারণ সুমিত্রা এমন একজন মানুষ যিনি খুব Simple – সবামী বিশাল চাকরী করেছেন, সুমিত্রার চাকরী করার কোনো দরকার-ই ছিল না। কিন্তু তিনি করেছেন, কারণটা তার কাছে বাচ্ছারা খুব প্রিয়। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি ভালোবাসেন। শুধু তাই নয়, সুমিত্রা অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠ।নিজের জীবনেও এবং কাজেও। সুমিত্রা এমন একজন মানুষ যিনি সবরকম মানুষের সাথে কথা বলতে পারেন। কোনো অহংকার নেই। আমি তার কাছে জীবনের অনেক শিক্ষা পেয়েছি এদেশে এসে। আমার এই সহচরী নিজগুনে অন্যন্যা।

Advertisements

খুচখাচ রান্না ৩ ডিমের কেক

Sahachari 2

ডিমের কেক

নমিতা ঘোষ

উপকরণ

মুরগীর ডিম ১২ টা

মুরগীর কিমা ২০০ গ্রাম

১ টি মাঝারী পেঁয়াজ (কুচি)

পালং পাতা কুচি, ২ কাপ

নুন (প্রয়োজন মতো)

রসুনবাটা ১/২ চা চামচ

মাখন ২ চামচ

 

পদ্ধতী

প্রথমে ১২ টি ডিম ভেঙে খুব ভালো করে ফেটিয়ে নাও। একটি ফ্রাইং প্যানে অল্প তেল দিয়ে মুরগীর কিমা নুন আর রসুনবাটা মিশিয়ে নেড়ে নাও।শুকনো করে ভেজে নিয়ে ফেটানো ডিম মেশাও।এবারে পেঁয়াজকুচি ও পালং পাতা কুচি, প্রয়োজনীয় নুন মিশিয়ে নাও। এবার একটি ওভেনে রান্না করা যায় এমন একটি পাত্র নাও। ভাল করে মাখন মাখিয়ে নাও। ফেটানো ডিমের মিশ্রন ঢেলে দাও। এবার ওভেনটিকে preheat করে নাও। ২০০ ডিগ্রীতে ২০ মিনিট বেক করে নাও।বের করে ঠান্ডা হয়ে গেলে উপুড় করে কেকটি বের করো। চৌকো করে কেটে পরিবেশন করো।

কথোপকথন/ সহচরী ১

 

Sahachari 4

সহচরী ১ মিতা পল

আমার প্রথম সহচরী হলেন মিতাদি (মিতা পল)। একদিকে পেশায় IT program manager, একাই ৬০ জনের একটি টিম সামলান, অন্যদিকে গৃহিনী, স্ত্রী, মা এবং বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত দীর্ঘদিন ধরে। তবে প্যাশন হল নাটক। এই প্রসঙ্গে পরে বলছি।

জন্ম ইচ্ছাপুরে। বাবা ছিলেন ডিফেন্স-এ। সেই সুত্রে পরবর্তী কালে কানপুরে ডিফেন্স কলোনীতে বসবাস এবং সেখানেই বড় হয়েছেন। প্রবাসে বাংলা শেখা মার ইচ্ছায়। বাড়ীতে ছিল অনেক বাংলা বই। ছোটবেলাতেই পরিচয় রবীন্দ্ররচনাবলীর সঙ্গে। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখেছেন গীতবিতানে।

স্কুলের গন্ডী পেরিয়ে মিতা এলেন যাদবপুর বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়তে । Physics honors  এর ছাত্রী মিতার কলকাতায় হোস্টেলে নতুন জীবন শুরু হল। পড়াশুনার সাথে সাথে বাংলা সাহিত্য পড়া আবার শুরু হল। সতীনাথ ভাদুড়ীর “ঢোড়াই চরিত মানুষ” দিয়ে শুরু। যাদবপুরে কাটানো ৫-৬ বছরে মিতা culturally enriched হলেন। এসবের মধ্যেই কানপুরের মিতা চ্যাটার্জীর পরিচয় হল Chemical engineering এর ছাত্র দিব্যেন্দু পলের সঙ্গে। একসঙ্গে নাটক করা শুরু হল। বিয়ে করেন ১৯৮৪ সালে। আমেরিকার ওকলাহোমাতে পাড়ি দেন ১৯৮৮ সালে। ইতিমধ্যে জীবনে তৃতীয় মানুষের আবির্ভাব হয়েছে। একমাত্র ছেলে প্রিয়াঙ্ককে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর নতুন জীবন শুরু হল আমেরিকায়। ক্রমে North Carolina এলেন এবং জমে উঠল তিনজনের সংসার।এখানে আবার বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত হন। স্বামী-স্ত্রী মিলে অনেক নাটক produce করেছেন। নাটকের  দল  তৈরী করেন- Carolina Theater Workshop (CLT-W)। সবামী দিব্যেন্দু Creative director আর বাকীটা মিতা সামলেছেন। এই যে বাকীটা বললাম- এটা কিন্তু অনেকটা কাজ একটা নাটকের দলের ক্ষেত্রে।নাটক শুরু করা, রিহারসাল ঠিকঠাক হওয়া, লোকজনের সংগে যোগাযোগ করা এবং রাখা, venue ঠিক করা, টিকিট বিক্রি করা, নাটক মঞ্চস্থ করা- একটা বিরাট ব্যাপার। স্টেজে অভিনয় ছাড়াও অনেক আনুসংগিক কাজ থাকে। নাটকের দল নিয়ে বাইরে গেছেন অনেকবার show করতে। কলকাতা থেকে বিখ্যাত নাটকের দল নিয়ে এসেছেন।

দৈনন্দিন জীবন কিন্তু থেমে থাকেনি। সংসার, ছেলে মানুষ করা, নাটকের সঙ্গে সঙ্গে Network Engineering নিয়ে MBA শেষ করে IBM এ যোগদান করেন ১৯৯৮ সালে।ব্যাংগালোরে কাটান দেড় বছর Service Coordinator Delivery Project Executive হিসেবে।এই সময়ে একটা বড় টিম একাই সামলেছেন। অনেক রকমের মানুষ নিয়ে কাজ করেছেন। এই সময়ে তার people handling skills খুব কাজে এসেছে।

বর্তমানে মিতা থাকেন Washington DC তে স্বামীর সঙ্গে। ছেলে স্কুল-কলেজের গন্ডী শেষ করে এখন Lawyer। এখানে বলে রাখি এই রকম নাটক-পাগল মা-বাবার সন্তান প্রিয়াঙ্ক কিন্তু ছোটবেলায় অনেক নাটক করেছে। মিতার একান্ত ইচ্ছা ভবিষ্যতে দেশে গিয়ে কোন NGO adopt করা এবং তাদের নানাভাবে সাহায্য করা। মিতার মনে পড়ে ছোটবেলায় দেখেছেন মাকে Women welfare এর সেলাই স্কুল চালাতে। Philanthropist বাবাকে- যিনি নিঃশব্দে দান করতেন।

মিতার মতে ভবিষ্যত নাটক – “আমরা অনেকটা সময় পেরিয়ে এসেছি সেই সময় থেকে যখন ছেলেরা মেয়েদের রোল করতেন। এখন অনেক মেয়ে আসছেন মেয়েদের রোল করতে।  কিন্তু একদিন আসবে যেখানে Unisex roles আর Strong character roles আসবে। নাটক এমনি একটা মিডিয়া যেটা একদিকে Therapeutic অন্যদিকে Empowerment আনতে পারে মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে সেই সব মেয়েদের জন্য যারা নিজের জন্য বলতে পারেনি বা পারেনা- নাটক তাদের একটা Front হতে পারে। নাটক শুধুমাত্র আমোদ বা entertainment এর জন্য নয়-একটা ক্ষমতাবান media -যা খুব সহজে মানুষের হৃদয় ছুঁতে পারে। ভবিষ্যত প্রজন্ম নাটক-Therapy র কথা ভাবতে পারে।“

খুচখাচ রান্না ২/ মুশুরের ডালের পাতুরী

 

Sahachari 2

মুশুরের ডালের পাতু্রী

নমিতা ঘোষ

পদ্ধতিঃ ২ কাপ মুশুর ডাল ভিজিয়ে নাও। এবারে ডালের সংগে ২/৩ টি কাঁচালংকা দিয়ে বেটে নাও। ২ টেঃ চামচ সরু পেঁয়াজ কুঁচি, ২/৩ চামচ ধনে পাতা কুঁচি, ১ চামচ সরু করে কাটা আদা কুঁচি ভাল করে মিশিয়ে নাও। পরিমানমতো নুন আর ১ চামচ সর্ষের তেল মিশিয়ে নাও। এবারে কলাপাতা একটু বড় করে কেটে নাও। অল্প আঁচে চাটু বসিয়ে কলাপাতার টুকরোগুলি সেঁকে নাও (পাতুরীর জন্য মুড়তে সুবিধা হবে)। এবারে চারটি কলাপাতার টুকরোর মধ্যে মুশুর ডালের পেষ্ট সমান ভাগে ভাগ করে রাখ। কলাপাতা মুড়ে নিয়ে সুতো দিয়ে বেঁধে নাও। চাটুর ওপরে অল্প আঁচে সেঁকে নাও (৪/৫ মিনিট)। দুই পিঠে ভাল করে সেঁকে পরিবেশন কর।

টুকটাক সেলাই ২/ রংবেরং এর কোষ্টার

Sahachari 3

rafeya coaster

রংবেরং এর কোষ্টার

নমিতা ঘোষ

রাফেয়া (পছন্দমতো রঙের)

বা

মোটা সুতো

বিড্‌স বা পুঁতি

কুরুশ

পদ্ধতি

প্রথমে ৬টি চেন বুনে নিয়ে একটি রিং তৈরী করো। তিনটি চেন বুনে রিং এর মধ্যে ২ ফুল লং, ২ চেন, ২ ফুল লং, আবার ২ ফুল লং, ২ চেন, ২ ফুল লং করে চারবার বুনে প্রথমে বোনা লং এর মাথায় জুড়ে দাও। এইভাবে আবার তিনটি চেন দিয়ে শুরু করো। এইভাবে ৪ লাইন বুনে যাও। প্রত্যেকবারে ৪ টি কোনে ২ টি লং, ২ টি চেন এবং ২ টি লং বোনা হবে। শেষ লাইনে বিপরীত রং-এর রাফেয়া বা মোটা সুতোর মধ্যে পছন্দমতো রং এর পুঁতি ঢুকিয়ে নাও। এবার চারিদিকে হাফ লং দিয়ে বোনো। বোনার মাঝে মাঝে একটি করে পুঁতি আটকে নাও।

একটু আধটু কথা

Sahachari Pic 1

পুজো আসছে। আগামী ৭ই অক্টোবর মহালয়া। পুজো মানে আমার কাছে রেডিও তে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়ার অনুষ্ঠান, ঢাকের আওয়াজ, ধুনোর গন্ধ, নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর পাড়ার মাইকে বাজা কিশোরকুমারের গাওয়া “তারে আমি চোখে দেখিনি” অথবা “নয়ন সরসী কেন ভরেছে জলে”। নতুন জামার গন্ধ এখনো চোখ বন্ধ করলে পাই। আমাদের বাড়ির কাছে দুটো পুজো হত। গোলপার্ক আর কাকুলিয়া। সকাল থেকেই গানের আওয়াজ আসত। মহালয়ার দিন ভোরে মহালয়া শুনতে শুনতে দক্ষিণেশ্বর যাওয়া, অষ্টমীর দিন সকালে উপোস করে নতুন শাড়ী পরে অঞ্জলী দিতে যাওয়া, ফিরে এসে বাবার আনা গাঙ্গুরামের খাস্তা কচুরী আর গরম গরম সিঙ্গারা দিয়ে চা খাওয়া, রাতে ঠাকুর দেখতে যাওয়া পাড়ায় পাড়ায়- কত স্মৃতি মনে ভিড় করে আসে। মায়ের ছিল অসম্ভব এনার্জি। আগে থেকে টিকিট কেটে রাখত বাসে করে ঠাকুর দেখার। সপ্তমীর দিন রাতে বেড়িয়ে পড়ত আমাদের নিয়ে। বাসে করে সারারাত ধরে কলকাতার ঠাকুর দেখা। আমাদের প্রায়  ৬-৭ জনের একটা দল হত। আমরা সারারাত ধরে ঠাকুর দেখে ক্লান্ত হলেও মার কোনো ক্লান্তি নেই। বাড়ী ফিরে অঞ্জলী দিতে যেত আমাদের নিয়ে।

এখন শুনেছি কলকাতায় পুজোয় সন্ধেবেলায় ঠাকুর দেখা অসম্ভব- এত ভীড়! লোকজন তৃতীয়া বা চতূর্থীর দিন রাতে ঠাকুর দেখতে বেরোয়। তবুও একবার কলকাতায় পুজো দেখতে যেতে ইচ্ছে করে। যাব একবার।

প্রবাসে পুজো অনেক ঘরোয়া। ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী – এই পাঁচ দিনের পুজো সাধারণতঃ শুক্রবার সন্ধ্যে, শনি আর রবিবারের বিকেলের মধ্যে শেষ করা হয়। বিকেলের মধ্যে বলছি তার কারণ এরপর সব পরিস্কার করে গুছিয়ে তুলে নিয়ে যেতে হবে প্রতিমা সমেত, কারণ পুজো হয় ভাড়া করা বাড়ীতে। স্কুলবাড়ী্র কাফেতারিয়া  অথবা কোন বড় হল এ। কাজেই শুক্রবার সব জিনিষ নিয়ে সাজিয়ে পুজো, আবার পুজো শেষে রবিবার বিকেলে সব গুটিয়ে ফেলা। কিন্তু এই দুদিনে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী আর দশমী পুজো সব হয়। এরমধ্যেএ অষ্টমীতে -শনিবার সকালে অঞ্জলী থাকবেই। শনিবার দুপুরে খাবারের পর স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান হয়। কোনো কোনো জায়গায় সন্ধাবেলায় আরতি শেষে অনুষ্ঠান হয়। রবিবার দশমী পুজো। পুজো শেষ হলে ঠাকুর বরণ, সিঁদুরখেলা, ধুনুচি নাচ, তারপর খাওয়া। পুজো শেষ।পুজোর কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম সার্থক। আসছে বছর আবার হবে বলে সব গুটিয়ে ফেলা। প্রবাসী হিসাবে আমার এই পুজো ভালোই লাগে। দ্বিতীয় প্রজন্মের জন্য অঞ্জলীর মন্ত্র সংস্কৃতে ছাড়াও ইংলিসে অনুবাদ করা হয়। এই দ্বিতীয় প্রজন্মের কাছ থেকে শুনেছি তাদের মনে দুর্গা পুজো, ভারতীয় পোষাক পরা, অঞ্জলী, প্রসাদ, পুজোর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা এগুলি বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। তারাও পরে তাদের বাচ্ছাদের নিয়ে পুজোমন্ডপে আসে। এখানেই প্রবাসের পুজো সার্থক। দুর্গাপুজো বাঙ্গালীয়ানা বা বাঙ্গালী সংস্কৃতির এক প্রধান অংশ এটা প্রবাসী বাঙ্গালীরা তাদের সন্তান-সন্ততির মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পারে।দুর্গাপুজোর আরেকটা বৈশিষ্ট্য হল এই পুজো সার্বজনীন- মানে অনেকে মিলে করা। নিজের বাড়ীতে লক্ষীপুজো করছি-এরকম নয়। কাজেই সবাই মিলে একটা কাজ সুষ্ঠুভাবে করছি-এটাও একটা শেখার বিষয়। কেউ পৌরোহিত্য করছেন, কেউ রান্না দেখভাল করছেন, কেউ খাবার পরিবেশন করছেন, কেউ বাজার করছেন ইত্যাদি অসংখ্য কাজ। আমার প্রবাসের পুজো ভালোই লাগে। অনেক কিছু শেখার আছে। প্রবাসের পুজো শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, সংস্কৃতির ধারক ও বাহক।

আমার কথা

Sahachari Pic 1

কেন এই ব্লগ টি শুরু করলাম?
আমি কলকাতা ছেড়েছি দীর্ঘদিন আগে। প্রথমে ছিলাম ব্যাঙ্গালোর শহরে- বছর পাঁচেক, তারপর ক্লীভল্যান্ড শহরে ও বর্তমানে পিটসবার্গ শহরে। আমেরিকাতে প্রায় ২৩ বছর হতে চল্‌ল। কাজেই প্রবাসী বাঙ্গালী হয়ে গেছি অনেকদিন। এই প্রবাসে অনেকদেশের মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে, কিন্তু আমার বাংলা শিকড় গভীরে গেঁথে গেছে। বাংলা ছায়াছবি দেখা, বাংলা গান শোনা, বাঙ্গালী সংস্কঋতি ছাড়াও আরো কিছুর জন্য মনে ইচ্ছা জেগেছিল। অনেকদিন এদেশে থেকে দেখেছি যে বাঙ্গালী মেয়েরা কতরকমের কাজে নিজেদের জড়িয়ে রেখেছে! জুতোসেলাই থেকে চন্ডীপাঠ… সবরকমের কাজে মেয়েরা পারদর্শী। বিভিন্ন রকমের পেশায়, সুন্দর বাড়ি সাজানো, সংসার পরিচালনা, ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা, নাচ, গান, নাটক-ইত্যাদী ইত্যাদী – সবকিছুতে মেয়েরা অত্যন্ত নিপুণ। আমি কিন্তু বাঙ্গালী ছেলেদের নিচু করছি না। তারাও নিজগুনে প্রচুর সুনাম অর্জন করেছেন, করছেন ও করবেন। আমি এই ব্লগে বাঙ্গালী মেয়েদের না বলা কথা বলতে চাই। সেই সব মেয়েদের কথা যারা আমাকে এই প্রবাসী জীবনে প্রতিদিন চলার পথে প্রেরণা দিয়েছেন, দিচ্ছেন ও দেবেন। এখানে প্রত্যেক মাসে থাকবে একজন প্রবাসী বাঙ্গালী মেয়ের কথা, এছাড়াও এখানে থাকবে সহজ কিছু সেলাই ও রান্নার কথা, কিছু প্রবন্ধ।
এই ব্লগের নাম হল “সহচরী”। আমার মনে হয় যদি একজনের থেকে অনেকে মিলে কাজ করলে তার ফলটি ভাল হয়। কাজেই এই ব্লগে আমি আমার কথা বিশদভাবে না বলে অন্যদের কথা বলব। কাজেই এটা আমার একার প্রয়াস নয়, অনেক সহচরীদের সন্মিলিত প্রয়াস। আমরা -হাতে হাত ধরে একে ওপরকে এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরণা দেব।
বাংলায় কেন ? স্কুলে বাংলা পড়েছি, প্রচুর বই পড়েছি ছোটোবেলায়, কলেজ-জীবনে। গতবছর থেকে বাংলায় লিখতে শুরু করেছি। লিখতে গিয়ে দেখলাম দীর্ঘদিন পরিচর্যা না করার জন্য আমার বাংলায় মরচে পড়েছে। তখনি ভেবেছি যে যখন নিজের ব্লগ শুরু করব- বাংলায় লিখব। তাই শুরু হল আমার ব্লগ প্রবাসী বাঙ্গালী মেয়েদের কথা দিয়ে।