সহচরী ১৫/ শর্মিলা ব্যানার্জী বসু/ মার্চ ২০২০

সহচরী ১৫/ শর্মিলা ব্যানার্জী বসু

Sharmila 1

ছবি ১) শর্মিলা ব্যানার্জী বসু

জগতের আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ

ধন্য হল ধন্য হল মানবজীবণ।

প্রায় ৩৫ বছর আগের কথা। স্থান কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। একটি মেয়ে যাচ্ছে বিদেশে ডক্টরেট করতে। বাড়ীর বড় এবং খুব আদরের মেয়ে। আত্মীয়স্বজন অনেকে মিলে বিদায় জানাতে এসেছেন। বাবা, মা, ঠাকুমা, দাদু, মামা, আর ছোট ভাইরা সব্বাই। মেয়ে অনেকদূরে চলে যাবে, বাড়ীর লোকজনেদের যেতে দিতে মন চায় না। অবশেষে গেট-এ বিদায় জানিয়ে সবাই বিমানবন্দরের ছাদে গেলেন তাদের আদরের মেয়ের প্লেনে উঠে যাওয়া দেখতে। আর প্লেনে উঠে যাবার আগে বাড়ীর সবাইকে হাত নেড়ে বিদায় জানাবার সময় মেয়েটি ভাবছিলেন ওদের কত গর্ব আর আনন্দ যে আমি বিদেশে পড়তে যাচ্ছি। আমি যেন এর মর্যাদা রাখতে পারি ভালো কাজ করে। আবার কবে সবাইকে দেখতে পাব? ৩৫ বছর আগেকার ফেলে আসা দিনটিকে সেই মেয়েটি মনের ক্যামেরায় ধরে রেখেছে। সেদিনের কলকাতার কিছু অত্যন্ত প্রিয় মানুষেরা আজ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। ছোট ভাইরা এখন পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। আর সেই মেয়েটি এখন গৃহিনী, মা, বড় সায়েন্টিষ্ট এবং আমার এবারের সহচরী।

আমার ১৫ নং সহচরী শর্মিলাকে নিয়ে এলাম সবার কাছে। ডাঃ শর্মিলা ব্যানার্জী বসু পেশায় সায়েন্টিষ্ট, ভার্জিনিয়াবাসিনী, এবং গত ১৪ বছর ধরে “মাইন্ডস্পেক্” (Mindspec) নামে একটি কম্পানি চালাচ্ছেন (প্রেসিডেন্ট, চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার)। মাইন্ডস্পেক-এর কাজ হল বায়ো-ইনফরম্যাটিক্‌স ব্যাবহার করে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল অসুখের কারণগুলি খোঁজা (https://www.mindspec.org/) । নাঃ বাকিটা জানতে হলে পড়তে হবে এই লেখা।

শর্মিলার ছোটোবেলা কেটেছে উত্তর কলকাতার কলেজ স্ট্রীটের কাছে পটুয়াতলা লেনের তাদের আদিবাড়িতে। একান্নবর্তী পরিবারের সদস্য ছিলেন তার অনেক জ্যাঠা, কাকা ও পিসিরা। সাবেকী কালের দুমহলা বাড়ী, সঙ্গে ঠাকুরদালান যেখানে বাৎসরিক পূজা হয় এখনো। তার প্রজন্মে তিনিই প্রথম সন্তান। খুব আদরে এবং আনন্দে কেটেছে তার ছোটোবেলা। জ্যাঠাদের কাছে গল্প শুনে আর দাবা খেলে, প্রায় সমবয়সী কাকা ও পিসিদের সঙ্গে খেলে ও সময় কাটিয়ে। সেই দিন গুলিতে পড়াশুনার চাপ ছিল না। বাবা বদলী হয়ে চলে গেলেন বম্বেতে। শর্মিলার আর “দিন গুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না”।

বম্বেতে শর্মিলা ইংলিস মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি হলেন। কিন্তু মন মানতে চায় না ভীষণ কলকাতার বাড়ীর আত্মীয়দের কথা মনে পড়ে। তাদের বাংলায় চিঠি লিখে যোগাযোগ রাখতেন। স্কুলের ক্লাসের সঙ্গে নিজেকে মানাতে অসুবিধা হত। খুব সহপাঠীরা বিরক্ত করতো। অবস্থার পরিবর্তন হল ক্লাস এইট-এ উঠে। অঙ্ক আর বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো রেজাল্ট করতে শুরু করলেন। অনেককে টপকে এক্কেবারে ক্লাসের প্রথমসারিতে চলে গেলেন। সহপাঠীদের র‍্যাগিং করা বন্ধ হল। তারা বুঝলো একে আর জব্দ করা যাবে না।স্কুলের গন্ডী পেরিয়ে এগারো-বারো ক্লাস পড়লেন রুইয়া কলেজে বিজ্ঞান নিয়ে। বম্বে থেকে চলে এলেন কলকাতায় প্রেসিডেন্সী কলেজে কেমিস্ট্রি ওনার্স নিয়ে পড়তে। কেমিস্ট্রির ল্যাব হতো বেকার ল্যাবরেটারীতে। ল্যাবে প্র্যাকটিক্যাল করতে ভালো লাগতো।কোথা দিয়ে যেন সময় কেটে যেত। প্রেসিডেন্সীতে এসে মনে হল রুইয়া কলেজ থেকে এখানকের পরিবেশ অনেক আলাদা।এখানে কেমিষ্ট্রির গন্ডী ছাড়িয়ে আরো অনেক কিছু জানার আছে। সহপাঠী ছিলেন বোস ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টারের মেয়ে দীপ্তি ভট্ট্যাচার্য। তার সঙ্গে গিয়ে হরগোবিন্দ্‌ খুরানার লেকচার শুনতে গেছেন। কলেজ জীবণের এইসব অভিজ্ঞতা তার মনকে সমৃদ্ধ করেছে। শর্মিলা বি এসসি খুব ভালোভাবে পাশ করলেন প্রথম হয়ে।

নয়ন আমার রূপের পুরে স্বাদ মিটায়ে ঘুরে

শ্রবণ আমার গভীর সুরে হয়েছে নিমগ্ন।

এবারে চলে এলেন বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজে বায়োকেমিষ্ট্রি নিয়ে মাষ্টার্স করতে। এখানে দূর দুর থেকে ছেলেমেয়েরা পড়তে আসত। পড়াশুনাই এখানে প্রধান, তাই পড়াশুনার বাইরে অন্য কিছু করা হয়নি। এম এসসি পড়াকালীন গবেষণার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়লেন। তিনি এম এসসি পাশ করলেন স্বর্ণপদক পেয়ে। মা-বাবার স্বপ্নপূরণ হল। মাষ্টার্স করে বোস ইন্সটিটিউটের প্রফেসর বীরেন বিশ্বাসের ল্যাবরেটরীতে মাস ছয়েক কাজ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিলেন। ইউনিভার্সিটি অফ মেরীল্যান্ডের বায়োকেমিসস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে প্রফেসর নরম্যান হ্যানসেন এর কাছে সাড়ে চার বছরে পি এইচ ডি শেষ করলেন দুটি সায়েন্টিফিক পেপার ও একটি বইয়ের চ্যাপ্টার পাবলিশ করে।

এরমধ্যে আলাপ হল ভার্জিনিয়াবাসী শ্রী সৌমেন বসুর সঙ্গে ১৯৮৯ সালে। সৌমেন ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনীয়ার, মাষ্টার্স করেছেন কম্পুটার সায়েন্সে ও চাকরী করেন। বিয়ের পর তাদের প্রথম সন্তান হল অর্ক। ১৯৯১ সালে যোগ দিলেন ন্যাশন্যাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ -এ (NIH)। তাকে পরিবার, সামাজিক দায়িত্ব, কর্তব্য এবং চাকরী সব একই সঙ্গে সামাল দিতে হয়েছিল। আগে ৬০-৭০ ঘন্টা প্রতি সপ্তাহে রিসার্চে দিতেন কিন্তু এখন আর সেটা সম্ভব নয়। কাজেই এই নতুন জীবণের সঙ্গে নিজেকে তৈরী করতে প্রথমে বেশ কষ্ট হয়েছিল। এসবের মধ্যেই বেশ কয়েকটি পেপার পাবলিশ করলেন।

ইতিমধ্যে ছেলে অর্কের ৩ বছরে অটিসম্‌ (Autism)ধরা পড়ল। প্রথমেই লক্ষ্য করলেন কোনো মেনস্ট্রিম জার্নালে অটিসম্‌ এর ওপর পেপার বেরোয় নি। সেই সময়ে অটিসম্‌ সমন্ধে খুবই কম জানা ছিল। এই বিষয় নিয়ে আরো পড়ার জন্য পুরোনো রিসার্চ পেপার খুঁজতে যেতেন এন আই এইচ ক্লিনিক্যাল সেন্টার লাইব্রেরী বিল্ডিং এর নীচে (বেসমেন্টে)। অনেক খুঁজে ১৯৬০-১৯৭০ এর কিছু সায়েন্টিফিক পেপার ফটোকপি করে পড়েছেন। রিসার্চের সঙ্গে সবাই মিলে বাড়ীতে অর্ককে কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করতে শেখানো শুরু করলেন। ১৯৯৫ এ তাদের দ্বিতীয় সন্তান মিনি আসে পৃথিবীতে। সবকিছু দেখে তার মনে হল মিনির মনের ভাব প্রকাশ করার কোনো সমস্যা নেই। যেদিন তার মেয়ে মার মুখের দিকে তাকিয়ে প্রথম বলল “Have a nice day!”শর্মিলা নিশ্চিন্ত হলেন। বাচ্ছার বেড়ে ওঠার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দুটি চিহ্ন খুব গুরুত্বপূর্ণ ১) চোখে চোখ না রাখা; ২) সামাজিকভাবে কথাবার্তা বলতে না পারা (1. Lack of Eye contact; 2. Lack of social conversation)। যারা স্বাভাবিকভাবে বড় হচ্ছে তাদের এই সব গুণগুলি শেখাতে হয় না, এগুলি আপনিই এসে যায় বাচ্ছাদের মধ্যে। তাদের এক বছরের মিনি ছয় বছরের বড় দাদার সঙ্গে খেলাধুলা করে দুজনে বড় হল।

তোমার যজ্ঞে দিয়েছ ভার বাজাই আমি বাঁশী

গানে গানে গেঁথে বেড়াই প্রাণের কান্না হাসি।

 ১৯৯৮ তে বায়োইনফরম্যাটিক্‌স -এ যোগ দিলেন NHGRI (National Human Genome Research Institute)। বিভিন্ন প্রোটিনের আকার ও কাঠামো তৈরী (3 dimensional structure modeling) করতে লাগলেন। এইভাবেই তিনি ল্যাবরেটরী-ভিত্তিক গবেষণা থেকে কমপিউটার-ভিত্তিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত হলেন। ফ্রান্সিস কলিনস্‌ (Dr. Francis Collins) সঙ্গে পেপার পাবলিশ করলেন। এর সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে নিজের গবেষণা চালিয়ে গেছেন অটিসম্‌ নিয়ে। একটা সময়ে মনে হল অটিসম্‌-এর ওপরেই পুরোপুরি গবেষণা করবেন। প্রসিদ্ধ সাইকোলজিষ্ট ও অটিসম্‌ রিসার্চ সেন্টারের ডিরেক্টর প্রফেসার সাইমন ব্যারন-কোহেন (Prof. Simon Baron-Cohen) -এর সঙ্গে যোগাযোগ করলেন কেম্ব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে। শর্মিলার সঙ্গে আলোচনা করে তার জেনেটিক্স রিসার্চের অভিজ্ঞতা আছে দেখে সাইমন তাকে অটিসম্‌ -এর মলিকিউলার জেনেটিক্স নিয়ে কাজ করার এবং অটিসম্‌ ডাটাবেস (Database) তৈরী করার পরামর্শ দিলেন। এই বিষয়ে স্বামী সৌমেনের খুব সাহায্য পেয়েছেন শর্মিলা। অটিসম্‌ সংক্রান্ত যাবতীয় লিটারেচার পাওয়া যাবে এরকম  (Uptodate knowledge base on Autism) ডাটাবেস তৈরী হল।এটি প্রথম অটিসম্‌ জেনেটিক ডাটাবেস এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রসিদ্ধ ও ব্যাবহৃত। শর্মিলা আবার গেলেন কেম্ব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে লেকচার দিতে। এই ডাটাবেসের সূত্রে ফান্ডিং পেলেন। এটি একটি বিরাট কৃতিত্ব। ক্রমশঃ মাইন্ডস্পেক-এর গন্ডী বাড়লো।অন্যান্য বৈজ্ঞানিকরা যোগ দিলেন।এরপর তিনি “ডাটাবেস” লাইসেন্স করলেন এবং অন্যান্য ইউনিভার্সিটি ও রিসার্চ সংস্থার কাছে পৌছে দিলেন। এইভাবেই সৃষ্টি তার সংস্থা মাইন্ডস্পেক এর। অটিসম ডাটাবেস অ্যাপ (Autism database App) এই সংস্থার প্রথম সৃষ্টি। (https://www.mindspec.org/team-view/sharmila-banerjee-basu-ph-d/)

এই সংস্থার দুটি দিক আছে, প্রথমতঃ বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ফান্ডিং, যার ব্যাপারে আলোচনা করলাম। দ্বিতীয়তঃ অটিসম্‌ গবেষণার তথ্য খুব সহজভাবে জনসাধারণের কাছে পৌছে দেওয়া (Outreach), যার ফলে সৃষ্ট হয়েছে অটিসম্‌ ডিকোডার অ্যাপ (Autism Decoder App, 2014) ও অটিসম্‌ রিডিং রুম (Autism Reading Room) (http://readingroom.mindspec.org/)। মাইন্ডস্পেকের লক্ষ্য হল ১) অটিসম্‌-এর ওপর একটি ডিজিট্যাল ডিক্সন্যারী ও ডিজিট্যাল তথ্যের লাইব্রেরী বানানো; ২) এই একটি সামাজিক অসুখের (Social disease) চিকিৎসার জন্য কালচারাল বা সংস্কৃতিক তারতম্যের (Cultural difference) ভুমিকা; ৩) অটিসম্‌ গবেষণার শূণ্যস্থান পূরণ করা পৃথিবীব্যাপী; ৪) পৃথিবীব্যাপী অটিসম্‌ গবেষণার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি চিহ্নিত করা।(https://www.sfari.org/2017/09/18/a-conversation-with-sharmila-banerjee-basu-about-sfari-gene/)।

Sharmila 2

ছবি ২) শর্মিলার গবেষণার কাজ নিয়ে লেকচার

শর্মিলা (President, Chief Scientific Officer and Founder)গত প্রায় ১৪ বছর ধরে এই সংস্থা সুষ্ঠ ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই কম্পানিতে এখন ১০ জন সায়েন্টিষ্ট, কিছু আই টি-র (IT)লোক, এছাড়াও আছেন অনেক কোলাবরেটার (Collaborator) দেশে-বিদেশে। তাদের কম্পানি ওয়েব কনফারেন্স (Web Conference) করে নিয়মিত অন্যান্য কোলাবরেটারের সঙ্গে।শুধু অটিসম্‌ নয়, অন্যান্য আরো নিউরো-ডেভেলাপমেন্টাল অসুখ (Neuro-developmental disorders)নিয়েও কাজ করে মাইন্ডস্পেক। মাইন্ডস্পেকের ভবিষ্যতের লক্ষ্য হল বেসিক সায়েন্সের গবেষণার রেজাল্ট ক্লিনিকে প্রয়োগ করা বা ক্লিনিকে প্রয়োগ করার যৌক্তিকতা যাচাই করা (Translational work on using basic science data and seeing it’s clinical impact)। এই সব নানারকমের কাজে শর্মিলা জড়িত আছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সায়েন্টিফিক পেপার পাবলিশ করে চলেছেন। তবুও তার মনে হয় কাজ তো চলছে, কিন্তু এই ধরণের অন্যান্য জটিল অসুখের যতটা রিসার্চ হয়েছে বা চলছে, তার ক্লিনিক্যাল গুরুত্ব কতটা হবে? এর মানে হল, রিসার্চের রেসাল্ট থেকে আমরা কি ট্রিটমেন্ট বা চিকিৎসার উপায় বার করতে পারবো? এছাড়াও এই ধরণের পেশেন্টদের দৈনন্দিন জীবণে এই ধরণের রিসার্চ বা গবেষণা কি কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে? এখনো অনেক কিছু করার আছে।

এইভাবেই শর্মিলার গবেষণা ও পারিবারিক জীবণ একসাথে মিলে মিশে গেছে। অর্ক আর মিনি দুজনেই বড় হয়ে গেছে। আগেই বলেছি ছোটোবোন দাদাকে কথা বলতে ও কথার মাধ্যমে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে সাহায্য করেছে। ছোটোবেলায় অনেক অসুবিধা হলেও অর্ক ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পাব্লিক স্কুলে পড়েছে। কলেজ কোর্স করেছে। সে অঙ্কে ভালো। বর্তমানে সে কাজ করে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তার নিজস্ব ব্যাক্তিগত জীবণ গড়ে ওঠেনি। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে। মিনি ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া (University of Virginia)থেকে ফিজিক্স নিয়ে পড়ে বর্তমানে নিউ ইয়র্কে কাজ করে। দাদা আর বোনের মধ্যে খুব মনের যোগাযোগ রয়েছে। ছেলেকে মা-বাবা সব জায়গায় সঙ্গে নিয়ে যান। অর্ক তাদের সামাজিক গন্ডীর অন্তর্ভুক্ত এবং সে সকলের হৃদয়ে তার জয়গা করে নিয়েছে।

শর্মিলা রান্না করতে ভালোবাসেন। দেশী-বিদেশী নানা রকম রান্না করেন এবং বিভিন্ন রান্নার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে বাড়ীতেই, নিজের রান্নাঘরে। এই রান্নাঘরটিকে ল্যাবের মতো সাজিয়ে নিয়েছেন। পড়ার বই তো লিখেছেন আগেই, ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে পুরোনো কলকাতার রান্না এদেশে কিভাবে করা যায় তার ওপর একটা বই লিখবেন।

শর্মিলা একজন প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক। তার গবেষণার অভিজ্ঞতাকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন একটা নতুন কিছু করতে যাতে অর্ক ও অর্কের মতো অন্যান্য ছেলে মেয়েদের একটি উন্নতমানের জীবণ গড়তে কাজে লাগে। এছাড়াও অনেক বৈজ্ঞানিক যারা এই বিষয় নিয়ে রিসার্চ করছেন বা ভবিষ্যতে করবেন তাদেরও কাজে লাগবে।

শর্মিলা তার স্বামী, বাবা-মা, শ্বশুরবাড়ি্র সবাইকে পাশে পেয়েছেন তার স্বপ্নকে সফল করতে। আমার অনেক শুভেচ্ছা রইল শর্মিলার জন্য।

অচেনাকে ভয় কি আমার ওরে

অচেনাকে চিনে চিনে উঠবে জীবণ ভরে।

জানি জানি আমার চেনা কোনোকালেই ফুরাবে না

চিহ্নহারা পথে আমায় টানবে অচিন ডোরে।

One thought on “সহচরী ১৫/ শর্মিলা ব্যানার্জী বসু/ মার্চ ২০২০

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s